নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার। বিকাল ৪:১৪। ১১ জুন, ২০২৬।

তানোরে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে দলবেঁধে শ্লীলতাহানি ও মারপিটের ঘটনায় মামলা, ৫ দিনেও গ্রেফতার হয়নি কেউ

মে ১৮, ২০২৬ ১১:২৩ 👁️ ৪৮ views
Link Copied!

মমিনুল ইসলাম মুন, স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোরে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে দলবেঁধে শ্লীলতাহানি ও মারপিটের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত বা অজ্ঞাত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— কামারগাঁ ইউনিয়নের মালশিরা গ্রামের বাবু ইসলামের ছেলে আরাফাত হোসেন (১৯), হেরাজ উদ্দিনের ছেলে হিমেল ইসলাম (২৮), মাড়িয়া গ্রামের জিয়ার উদ্দিনের ছেলে জুয়েল ইসলাম (২৭), রহিম মিস্ত্রির ছেলে সবুজ ইসলাম (১৭), মোজামের ছেলে নাইম (২৫), আজহার আলীর ছেলে ফয়সাল (২৬), তানোর পৌর এলাকার কাশিমবাজারের বাবু আজাদ (২৭), আমশো গ্রামের রিদয় (২০)সহ আরও কয়েকজন।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার ১ আসামি গ্রেপ্তার

পুলিশ জানায়, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে তারা সবাই আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, “আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আমি নিজেও কাশিমবাজার এলাকায় অবস্থান করছি। কোনোভাবেই অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।”

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার এসএসসি পরীক্ষা শেষে তানোর পৌর এলাকার কাশিমবাজার টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে বের হয়ে বাড়ি ফেরার জন্য ভ্যানে উঠেন ওই শিক্ষার্থী। এসময় একদল বখাটে তার হিজাব ও বোরখা টেনে তাকে ভ্যান থেকে নামিয়ে মারধর করে। স্থানীয় লোকজন ও অন্যান্য পরীক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী।

আরও পড়ুনঃ  মানসম্পন্ন পণ্য প্রাপ্তি জনসাধারণের নাগরিক অধিকার : শিল্পমন্ত্রী

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, “আমি পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে ভ্যানে উঠেছিলাম। তখন তারা আমার হিজাব ও বোরখা টেনে আমাকে নামিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করে। আমি কোনোভাবে সেখান থেকে পালিয়ে থানায় যাই। যারা আমার সঙ্গে এভাবে প্রকাশ্যে নির্যাতন করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ভিডিও সাক্ষাৎকার দিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় বখাটেদের উৎপাত দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্কুল-কলেজ ও কোচিং সেন্টারের আশপাশে শিক্ষার্থীদের প্রায়ই হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। অনেকে সামাজিক লজ্জা ও ভয় থেকে মুখ খুলতে চান না।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলি : ৪ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার

স্থানীয়রা আরও বলেন, “একজন পরীক্ষার্থীও এখন নিরাপদ নয়। প্রকাশ্যে একজন ছাত্রীর হিজাব-বোরখা টেনে খুলে ফেলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। এসব ঘটনায় প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।”

এদিকে, এর আগে গত ১২ মে তালন্দ এএম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা শেষে বের হওয়া এক শিক্ষার্থীকে উত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন তরুণের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় ওই শিক্ষার্থীর ফুফাতো ভাইকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এ ঘটনার জের ধরে চৌবাড়িয়া বাজারেও মারপিটের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের দাবি, আগের ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরবর্তীতে পরীক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও মারধরের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।