নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ রবিবার। বিকাল ৪:৫৬। ৩১ আগস্ট, ২০২৫।

তানোরে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ওয়েল্ডিং কারখানা, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

জুলাই ১৩, ২০২৫ ৬:৩২
Link Copied!

সাইদ সাজু, তানোর : তানোর উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন সড়ক গুলোর দুই পাশে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ওয়েল্ডিং কারখানা। পরিবেশ আইন না মেনে এসব কারখানার প্রভাবে চোখে আলোক রশ্মি প্রবেশ করে রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।যত্রতত্র কারখানা গড়ে ওঠায় ঝালাইকালে তীর্যক অতিবেগুনি রশ্মির বিচ্ছুরণ ও উচ্চ শব্দ ছড়িয়ে পড়ায় বিপদের মধ্যে পড়ছে কোমলমতি শিশু, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী,পথচারী, বিশেষ করে গর্ভবর্তী নারী ও বয়স্করা। ফলে পরিবেশের ‌ওপর পড়েছে বিরূপ প্রভাব হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য।

গত কয়েকদিন ধরে তানোর উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার গুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, তানোর পৌর সদরের থানা মোড়, সিনেমা হলের মোড়, কালীগঞ্জ, চান্দুড়িয়া, সরনজাই, মুন্ডমালা বাজারসহ বিভিন্ন হাট বাজারে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশতাধীক ওয়েল্ডিং কারখানা। এসব কারখানায় অনেক যুবকসহ শিশু ও কিশোররাও কাজ করছেন। এসব কারখানায় খোলা স্থানে সড়কের পাশে জনসমক্ষে দিন-রাত চলছে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ। এসব দেখার যেন কেউ নেই। এসব ওয়েল্ডিং কারখানায় তৈরি হচ্ছে লোহার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও লোহা জোড়া দেয়ার কাজ।

আরও পড়ুনঃ  বেনাপোল পুটখালী সীমান্ত চরের মাঠে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় এক যুবকের লাশ উদ্ধার

এছাড়া প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সড়কের দুই পাশে দখল করে বিভিন্ন গাড়ি জোড়াতালি দেওয়া, ঝালাই দেওয়া ও রং করা ইত্যাদি করা হয়। সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা এসব দোকান বাক্স, দরজা ও জানালার গ্রীল, লোহার রড ইত্যাদি ফুটপাত দখল করে রাখায় পথচারীদের মারাত্মক ভাবে বিঘ্ন ঘটছে। প্রধান সড়ক গুলোর দুই পাশে খোলা মেলাভাবে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করায় বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে পুরো সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি পথচারীদেরকে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির ওয়ার্ড কমিটি গঠন 

এবিষয়ে একজন সচেতন নাগরিক বলেন, প্রশাসন সচেতন হলে কারখানার মালিকরা এ ধরনের কাজ করতে পারতেন না। আমরা চাই প্রশাসনের মাধ্যমে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হোক। বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, খোলা জায়গায় ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করায় পথচারীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি পাশাপাশি স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থীরা কৌতুহলবশত ওয়েল্ডিংয়ের কাজ দেখায় চোখের রেটিনা ও লেন্সের ক্ষতি ডেকে আনছেন।

ওয়েল্ডিং কারখানার সঙ্গে যুক্ত যুবক ও শিশু শ্রমিকরা চোখে কালো গ্লাস ব্যবহার করছে না। ওয়েল্ডিংয়ের কাজের সময় তীব্র তীর্যক আলো বিচ্ছুরণের ফলে অতিবেগুনি রশ্মি যাতে বাইরে যেতে না পারে এজন্য ঘরের ভেতর আড়াল করে এবং কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে কাজ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এখানকার শ্রমিকরা এসব নিয়ম মানছে না।

আরও পড়ুনঃ  তারুণ্যের উৎসব নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা হয়ে উঠবে

ওয়েল্ডিং কাজের ক্ষতিকারক প্রভাব সর্ম্পকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বারনাবাস হাসদাক বলেন, ওয়েল্ডিংয়ের অতিবেগুনি আলোক রশ্মি সরাসরি চোখের ভেতর প্রবেশ করলে রেটিনা ও লেন্স ক্ষতিগ্রস্ত করে, দৃষ্টির ব্যাপ্তি হ্রাস করে ধীরে ধীরে অন্ধ করে দিতে পারে। এছাড়া চোখের পানি পড়া, যন্ত্রণা, জ্বালাপোড়াসহ নানা সমস্যা হতে পারে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।