স্টাফ রিপোর্টার : দেশে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ অঞ্চলে শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার সুযোগ-সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে আগামী দুই মাসের মধ্যেই একটি চীনা প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসবে। সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শুক্রবার (১২ জুন) ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। সরকার বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। আমরা দেশে শিল্পকারখানা তৈরি করতে চাই। ঠাকুরগাঁওসহ এ অঞ্চলে শিল্পায়নের সুযোগ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, একটি জাতির উন্নয়ন কেবল বাইরের সহায়তায় সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষা বিস্তার এবং কঠোর পরিশ্রম। চীনের উন্নয়নের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটি নিজস্ব প্রচেষ্টা, দক্ষ জনশক্তি এবং উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আজ বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আমাদেরও আত্মনির্ভরশীল হতে হবে এবং নিজেদের শক্তির ওপর ভর করে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে আরো দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে। শিশুদের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন প্রজন্মকে আরো শিক্ষিত, দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উন্নত শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে দু’দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, চলতি বছরের জুলাই অথবা আগস্ট মাসের মধ্যেই একটি চীনা প্রতিনিধিদল এখানে আসবে এবং সম্ভাব্য সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো পরিদর্শন করবে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকার ৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬ হাজার ৩০৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
#
