নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে ‘অন্ধকারে ডুবিয়ে’ দেওয়ার হুমকি ইরানের

আগস্ট ৬, ২০২৬ ১০:৪০ 👁️ ৩ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা হিসেবে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে ‘অন্ধকার’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। প্রতিবেশী দেশগুলোকে এই হুমকির পাশাপাশি হামলা চালানোর জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকাও দিয়েছে ইরান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপসাগরীয় অঞ্চেলের দুই কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

গত সপ্তাহে ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের অনুরোধ এবং কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির আশায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি। ট্রাম্পের ওই হুমকির পর তেহরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের ওই দুই কর্মকর্তার একজন এএফপিকে বলেন, ‘‘ট্রাম্প যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে আক্রমণ করেন, তাহলে একের পর এক দেশে হামলা চালিয়ে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে অন্ধকার করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান।’’ মধ্যপ্রাচ্যের আরেক কর্মকর্তাও তেহরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের বার্তা পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  চারঘাটে ইয়াবা ও হেরোইনসহ একজন গ্রেপ্তার

স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

পরিকল্পিত ওই হামলা ‘‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় আক্রমণ’’ হতে পারতো, এমন মন্তব্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বিবেচনা করছিলেন; যা নিয়ে তিনি আগেও বারবার হুমকি দিয়ে এসেছেন।

কর্মকর্তারা বলেছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, তাদের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের ঠিক একই ধরনের স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হবে।

আরও পড়ুনঃ  বাগমারায় সাংবাদিকের বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার লুট চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

ইরান এর আগেও প্রকাশ্যে এ ধরনের হুমকি দিয়েছে। তবে এবারের বার্তাটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও সুনির্দিষ্ট। উপসাগরীয় ওই কর্মকর্তা বলেন, নতুন এই বার্তায় হামলার জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুর একটি দীর্ঘ তালিকাও দিয়েছে ইরান।

গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে যেকোনো আক্রমণের জবাবে ইরানের একটি করে সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে। বিপরীতে তেহরানও ‘যেমন আঘাত তেমন প্রত্যাঘাত’ নীতির হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

উপসাগরীয় ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি সুপেয় পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলোতেও হামলা চালাবে। মরুভূমিপ্রধান ওই অঞ্চলের পানীয় জলের মূল ভরসাই হলো এসব কেন্দ্র।

আরও পড়ুনঃ  পাবনায় যমুনা নদীতে গোসলে নেমে দুই স্কুলছাত্র নিখোঁজ

ট্রাম্প হামলা স্থগিত করার পর সৌদি আরব বলেছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত চলাকালে ইরানের হামলার প্রধান ধাক্কা পোহাতে হয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোকেই। এসব হামলায় মার্কিন স্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

গত এপ্রিল ও জুন মাসে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও বিচ্ছিন্ন হামলা অব্যাহত ছিল। তবে জুলাইয়ে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা ও পরিধি বহুগুণ বেড়ে যায়। ওই সময় কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্য করে সবচেয়ে বেশি হামলা চালিয়েছিল ইরান।

সূত্র: এএফপি।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।