নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ শুক্রবার। সকাল ৯:৪৯। ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬।

বেগম জিয়ার উপরে নানা ধরনের নির্যাতন চালিয়েছিল পতিত সরকার : মিলন

জানুয়ারি ১৫, ২০২৬ ১১:৫৪
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : বেগম জিয়া দেশের মানুষের জন্য কোন অপশক্তির কাছে মাথানত ও আপস করেননি। তিনি একদিকে স্বামী ও সন্তানহারা, অপরদিকে কারাগারে থাকার সময় তার মা ও বোন মারা গিয়েছিলেন।ওয়ান ইলেভেনের সময় তার সন্তানদের আটক করে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল। সে সময় তাকে সন্তানদের নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয় বর্তমান বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমানকে অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও এবং অডিও তাকে দেখানো এবং শোনানো হতো। সেই সাথে বলা হত আপনি দেশ ছেড়ে না গেলে আপনার সন্তানদেরকে হত্যা করা হবে। সে সময় তিনি বলেছিলেন আমার দেশের বাইরে কিছু নাই। আর আমার শুধু দুই সন্তান নয় এ দেশের সকল মানুষ আমার সন্তানের মত। অতএব এ দেশ সেরা আমি কোথাও যাবো না।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় যারা এই দোয়ায় উপস্থিত হয়েছেন তাদেরকে বিএনপির এবং তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তিনি তাঁর নিজ বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন। সেইসাথে তাঁর স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও কনিষ্ট পুত্র আরাফাত রহমান কোকোকে হারিয়েছে। এত কিছুর পরেও তিনি দেশবাসীকে ছেড়ে যাননি।

শেষ অবধি তিনি তাঁর জীবন দিয়ে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে গেছেন বলে পবা উপজেলার দর্শন পাড়া ইউনিয়ন সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে বৃহস্পতিবার বিকেলে দর্শন পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিনবারের সফল সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুরের বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুনঃ  এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

তিনি আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালে তিনি জন্ম গ্রহন করেছিলেন। আর ১৯৬০ সালে তাঁর মেজর জিয়াউর রহমানের সাথে মাত্র পনের বছল বয়সে বিয়ে হয়েছিলো। আর ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের হয়ে ভারতের বিপক্ষে যুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে ভারত পরাজিত হয়েছিলো। সেনা সদস্য যাদের বাড়িতে আছে, আর সেই সদস্য যদি যুদ্ধে যায় তাহলে ঐ পরিবারের সদস্যদের অবস্থাটা কি হয় তা ঐ পরিবারের সদস্যরাই জানেন। বেগম জিয়া তখণ থেকেই তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। মাত্র বিশ বছর বয়নেস তিনি কঠিন সময় পার করেছেন। একজন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা যদি সেই দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন। তাহলে সেই সদস্যর কি অবস্থা হতে পাওে তা সবাই অনুমান করতে পারে।

এরপর ১৯৭১ সালে শুরু হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে অংশগ্রহন ও পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে বাঁচাতে মেজর জিয়াউর রহমান পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। এরপর তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। একজন সামরিক সদস্য যদি তার দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন তাহলে সে দেশ তাঁকে কি বলে আখ্যাদেয় তা সবাই জানে। সে অবস্থাতেই বেগম জিয়া পাকিস্তান থেকে জাহাজে করে চট্টগ্রামে চলে আসেন। সেখান থেকে তিনি তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছালে পাকিস্তানী বাহিনীর নিকট তাঁরা আটক হন। তাঁর স্ত্রী হয়ে তিনি দীর্ঘ নয়মাস সেখানে তিনি আটক ছিলেন। সেখান নিজেকে আরো দৃঢ়চিত্তের করে গড়ে তুলেছিলেন বলে জানান মিলন।

এরপর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে শহীদ হওয়ার পরে তিনি বিএনপির হাল ধরেন এবং স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। সে সময় তিনি কখনো জেলে আবার কখনো পালিয়ে বেড়াতেন। কিন্তু অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। অন্যান্য দল বেইমানী ও মেনাফেকী করলেও তিনি জনগণকে সাথে নিয়ে একাই নেতৃত্ব দিয়ে এরশাদের পতন ঘটান। এরপর ১৯৯১ সালে নির্বাচনের মাধ্যেমে তিনি সংসদ সদস্য নির্চাচিত হন এবং সেইসাথে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি তাঁর স্বামীর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য আপ্রান চেষ্টা করে গেছেন। তিনি মেয়েদেও জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধার্থে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রালয় প্রতিষ্ঠাসহ প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় ব্যবস্থার প্রবর্তণ করেছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  নিয়ামতপুরে সাংবাদিকদের সাথে বিএনপির প্রার্থীর মতবিনিময়

সেই নেত্রীকে তিনি দীর্ঘ সোয়া ছয় বছর মিথ্যা মামলার সাজানো রায়ে কারাগারে রাখা হয়েছিলো। গুরুতর অসুস্থ হলেও তিনি দেশের বাহিরে যেয়ে চিকিৎসা করার অনুমতি পাননি। তাঁর কক্ষে তেলাপোকা, টিকটিকি ও ইঁদুর ছেড়ে দেয়া হতো। সেখান থেকে তিনি ধীরে ধীরে অসুস্থ হতে থাকেন। তিনি আর সম্পুর্নভাবে সুস্থ হতে পারেননি। এরপর গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর দেশের মানুষকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন।

তিনি বলেন বেগম জিয়াকে সোয়া ছয় বছরের মুক্তি দেওয়া হলেও এক কথা গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল। সেসময় তিনি অসুস্থ হলেও চিকিৎসা করতে দেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এর পরে তিনি লন্ডনের চিকিৎসা করতে যান। কিন্তু তিনি সেখানে থেকে যাননি। চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফিরে এসে তার চিকিৎসক ডাক্তার জাহিদ হোসেনকে বলেছিলেন তার চিকিৎসা এখন থেকে এদেশে করাবেন। সেই থেকে তিনি দেশের চিকিৎসা করাতেন। আর শেষ পরিণতি সবাই জানেন। বেগম জিয়া যখন অসুস্থ ছিলেন সে সময় তার সুস্থতার জন্য দেশবাসী দোয়া করেছেন। কিন্তু আজকে তার রুহের মাগফেরাত করার জন্য দোয়া করা হচ্ছে। এটা কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  বিজিবি’র সফল অভিযানে দুই জন আসামীসহ বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য আটক

তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যু সবাইকে একতাবদ্ধ হতে শিখিয়ে গেছে। তিনি দেশের মানুষের জন্য যে আলোকবর্তিতা ছড়িয়ে গেছে তা কেউ কোনদিন ভুলতে পারবেনা। তিনি দেশে যে সম্মান পেয়েছেন এরকম সম্মান আর কেউ পায়নি। তাকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, বেগম জিয়া দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে শিখিয়ে গেছেন। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ও জ্বলন্ত প্রমাণ তার মৃত্যুর পরে তাঁর জানাযায় বিশ্বের ২৬টি রাষ্ট্র থেকে নেতৃবৃন্দ এসেছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরে বিশ্বে এমন কোন নেতার জানাযায় এত লোক হয়নি বলে জানান তিনি। তিনি বেগম জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, জুলাই যুদ্ধে সকল শহীদ ও দীর্ঘ সতের বছরে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সকল মৃত মুসলিম ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। সেইসাথে যারা অসুস্থ আছেন তাদের সুস্থতা কামনা করে, আসছে নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। বক্তব্য শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন দর্শন পাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম মাস্টার । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য জেলা বিএনপির সদস্য ও নওহাটা পৌর সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্য ও পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক সহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।