নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ শনিবার। রাত ৩:১৭। ১৩ জুন, ২০২৬।

সিগারেটের দাম বাড়ছে, প্রথমবার করের আওতায় নিকোটিন পাউচ

জুন ১১, ২০২৬ ৯:৪৬ 👁️ ৪৩ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাকপণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের সব স্তরের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো নিকোটিন পাউচের দাম নির্ধারণ ও এ পণ্যের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ সংক্রান্ত প্রস্তাব ঘোষণা করবেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য নিম্নস্তরে ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ বা প্রিমিয়াম স্তরে ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। বর্তমানে এসব স্তরে ১০ শলাকার সিগারেটের দাম যথাক্রমে ৬০, ৮০, ১৪০ ও ১৮৫ টাকা।

নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের দাম প্যাকেটপ্রতি ২ টাকা বাড়বে। মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম বাড়বে ১০ টাকা। উচ্চস্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রে মূল্য বাড়বে ২০ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  রাবি উপাচার্যের সঙ্গে আরএমপি কমিশনারের মতবিনিময়

আর অতি উচ্চ বা প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম একলাফে ২৫ টাকা বাড়িয়ে ২১০ টাকা করা হবে, যা চার স্তরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।

এ হিসাব অনুযায়ী প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম বাড়ছে সর্বনিম্ন ২০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ আড়াই টাকা পর্যন্ত।

সিগারেটের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্য হিসেবে পরিচিত নিকোটিন পাউচও প্রথমবারের মতো কর কাঠামোর আওতায় আসছে। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ পণ্যের ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের পাশাপাশি আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ৩৫০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতি ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচ এবং হিটেড টোব্যাকো পণ্যের ওপর ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপেরও প্রস্তাব করা হতে পারে। হিটেড টোব্যাকোর ক্ষেত্রে প্রতি ১০ শলাকার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২১০ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক ৬৭ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বাজেটে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ও অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী সিগারেটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সম্পূরক শুল্কহার ৬৭ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করবেন। পাশাপাশি অবৈধ তামাকপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা আসতে পারে, যার মাধ্যমে বাজারে তামাকজাত পণ্যের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এমন পণ্যের ব্যবহার কমানো এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

নিকোটিন পাউচ মূলত ধোঁয়াবিহীন একটি তামাকপণ্য। চুইংগামের মতো দেখতে এ পণ্য ব্যবহারকারীরা ঠোঁট ও মাড়ির মাঝখানে রেখে ব্যবহার করেন। পাউচ থেকে ধীরে ধীরে নিকোটিন শরীরে প্রবেশ করে এবং নির্দিষ্ট সময় পর এটি ফেলে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে নিকোটিন পাউচ বাজারজাত করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে আইজিপি শিক্ষাবৃত্তি ও পুরুস্কার বিতরণ

তামাক ও তামাকজাত পণ্য দেশের অন্যতম বড় রাজস্ব খাত। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে সিগারেট খাতে মোট করভার প্রায় ৮৩ শতাংশ।

এদিকে তামাকপণ্যের পাশাপাশি প্রস্তাবিত বাজেটে দেশে উৎপাদিত মদের ওপরও নতুন করে সম্পূরক শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজেটে বাংলাদেশে উৎপাদিত মদের উৎপাদন পর্যায়ে প্রতি লিটার ৫০০ টাকা হারে সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিগারেট ও অন্যান্য নিকোটিনজাত পণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক ব্যবহারের হারও কিছুটা কমতে পারে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।