নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ শনিবার। রাত ২:২০। ১৩ জুন, ২০২৬।

সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে নগরীতে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ

জুন ১২, ২০২৬ ৯:১১ 👁️ ৩২ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : ভারতে মুসলিম নির্যাতন, গণহত্যা, মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংস, সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইন, গাইবান্ধায় মূর্তি নির্মাণের প্রতিবাদ এবং বিতর্কিত সংগঠন ‘হেযবুত তওহীদ’কে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধকরণের দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম।

শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সোনাদিঘীর মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরোপয়েন্টে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা ভারতের বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের এখন আর ঘুমিয়ে থাকার সময় নেই, সবাইকে জেগে উঠতে হবে। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত বর্তমানে ইসরায়েলের মতো আচরণ শুরু করেছে। সেখানে মুসলমানদের ওপর যে নির্মম অত্যাচার চালানো হচ্ছে, তার প্রতিবাদ করার এখনই উপযুক্ত সময়।”

আরও পড়ুনঃ  ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট : লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ

ভারতের মোদি সরকারের সমালোচনা করে তারা বলেন, “সে দেশে মুসলমানদের নিয়ে তামাশা করা হচ্ছে, মসজিদ-মাদরাসা ভাঙচুর করা হচ্ছে এবং সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই অবৈধ পুশ-ইন এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা ভেবেছিলাম দেশ সংস্কার হবে। কিন্তু বর্তমানে সংস্কারের নামে কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কালো আইন প্রণয়নের চেষ্টা চলছে, যা তৌহিদী জনতা মেনে নেবে না।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা বলেন, “দেশ স্বাধীনের এত বছর পরেও আমাদের সীমান্তে বিজিবিকে আধুনিক অস্ত্র দেওয়া হয়নি। ৫০ বছর আগের খেলনা অস্ত্র দিয়ে ভারতের আগ্রাসন থেকে দেশকে রক্ষা করা যাবে না। বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে সীমান্তের বিজিবি সদস্যদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র তুলে দিতে হবে।”

আরও পড়ুনঃ  রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে চেক রিপাবলিককে হারাল দক্ষিণ কোরিয়া

বক্তারা আরও বলেন, “চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ানো হয়েছে, তা অনতিবিলম্বে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। পূর্ববর্তী সরকারের মতো লুটপাট চালালে দেশের জনগণ তা প্রতিহত করবে।”

গাইবান্ধায় মূর্তি নির্মাণের মাধ্যমে তৌহিদী জনতার অনুভূতিতে আঘাত হানা হয়েছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, “হেযবুত তওহীদ বাংলাদেশে একটি বিতর্কিত ও সমালোচিত ধর্মভিত্তিক সংস্কারবাদী সংগঠন। এই সংগঠনটি মুসলমানদের ঈমান-আকিদা ধ্বংস করছে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই অবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে একে নিষিদ্ধ করতে হবে। একই সাথে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ‘ইসকন’ কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে মূর্তি স্থাপন কঠোর হস্তে বন্ধ করতে হবে।” দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় ৭ বছরের শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, দম্পতিসহ আটক ৩

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মহানগর খেলাফতে মজলিসের সভাপতি মুফতি জমির হোসেন জমিরী। সহ-সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ তালহা। যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর ফরহাদ। হেফাজতে ইসলামের জেলার যুব বিষয়ক সম্পাদক মুফতি কামরুজ্জামান। সদস্য হাফেজ মাওলানা হোসায়েন আহমেদ দেওয়ান এবং ছাত্র বিষয়ক সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ।

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।