নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ শনিবার। রাত ৪:২৯। ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।

অবশেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পেল রাজশাহী

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ ২:০৬
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার পেল এবার রাজশাহী নগরবাসী। নির্মাণকাজ শেষে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা কেন্দ্রীয় এ শহীদ মিনারে এবার প্রথমবারের মতো ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করা হলো। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা পরিষদ।

সে অনুযায়ী শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে অমর একুশের প্রথম প্রহরে রাজশাহী বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে উন্মুক্ত করা হয়। এরপর বহু প্রতীক্ষিত এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনাটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ফলে এবারই প্রথম নগরবাসী নিজ শহরেই একুশে ফেব্রুয়ারিতে ফুল দিয়ে শহীদদের স্মরণ করেন। এর আগে রাজশাহী নগরীর ভূবনমোহন পার্ক কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার ও রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনারে বিচ্ছিন্নভাবে শ্রদ্ধা জানাতেন রাজশাহীবাসী।

আরও পড়ুনঃ  ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সমুদ্রবন্দর বিধ্বস্ত

রাজশাহী জেলা পরিষদের তথ্য মতে, নগরীর সোনাদীঘি মোড়ের পুরান সার্ভে ইনস্টিটিউটের জায়গায় পূর্ব নির্ধারিত প্রায় এক একর এলাকাজুড়ে নির্মিত হয়েছে স্থায়ী এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে এটি তৈরি করা হয়েছে।

এর আগে ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আরিফ টিপু। তবে সিটি কর্পোরেশন ও রাজশাহী জেলা পরিষদের মধ্যে এটি নিয়ে দরকষাকষি শুরু হয়। এ সময় ঝুলে যায় নির্মাণের প্রক্রিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত রাজশাহী জেলা পরিষদ এটির নির্মাণকাজ শেষ করে।

আরও পড়ুনঃ  শপথ নিলেন ২৪ প্রতিমন্ত্রী

এদিকে এবার প্রথমবারের মত শহীদ মিনারে ফুলে দিতে পেরে উচ্ছ্বাসিত রাজশাহীবাসী।

নগরবাসী বলছেন, এতদিন রাজশাহী কলেজে গিয়ে সাধারণ মানুষকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হতো, এতে ভোগান্তিও পোহাতে হতো। স্থায়ীভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চালু হওয়ায় এই সমস্যার সমাধান হলো এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানার জন্য এমন একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনও সেই অনুযায়ী কার্ড বিতরণ করে। পাশপাশি জেলা তথ্য অফিস থেকে মাইকিং করে ব্যাপক প্রচার চালায়। তিনি বলেন, এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিকতা না করে প্রথম প্রহরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সবাই এখন থেকে এক জায়গায় ফুল দিতে পারবে।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে একুশের প্রথম প্রহরেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল

বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে রাজশাহীর সর্বস্তরের পেশাজীবী ছাত্র-জনতার গৌরবময় ভূমিকা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাস এলাকায়। কিন্তু এই শহীদ মিনারের মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দীর্ঘদিনেও। তবে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণস্থল থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হলো রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। নির্মিত শহীদ মিনারটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের দৃষ্টি কেড়েছে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।