অনলাইন ডেস্ক : ঢাকাই চলচ্চিত্রের চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরেই কোনো সিনেমায় নেই। বর্তমানে নিজের ব্যবসা ও বিভিন্ন পণ্য, প্রতিষ্ঠানের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটছে তার।
গত কয়েক বছর ধরেই এই নায়িকার প্রফেশনাল ক্যারিয়ারের থেকে ব্যক্তিজীবন নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে ভক্তমহলে। কারণ হাতে সিনেমার কাজ না থাকলেও প্রাক্তন স্বামী শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীকে নিয়ে একাধিকবার সংবাদের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
একাধিক সাক্ষাৎকারে অপু বিশ্বাস জানিয়েছেন, বর্তমানে নিজের ব্যবসা ও সন্তান নিয়েই যত ব্যস্ততা। পাশাপাশি চেষ্টা করছেন শাকিব খানের পরিবারের সঙ্গে সুন্দর কিছু সময় কাটানোর।
তবে এরই মধ্যে সম্প্রতি এক টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে অপু জানিয়েছেন, তিনি এখন আর্থিকভাবে সফল হলেও একটা সময় নিদারুণ অর্থকষ্টে ভুগেছেন।
সময়টা ছিল ২০১৭ সাল। যখন সন্তান আব্রাম খান জয়ের জন্মের পর ভারত থেকে দেশে ফেরেন তিনি। অপুর কথায়, ছেলেকে নিয়ে দেশে ফেরার পর হাতে একেবারেই কোনো টাকা পয়সা ছিল না, ব্যাংকে তো দূরের কথা। তখন বুঝেছি, যাদের অর্থের অভাব আছে তাদের প্রতিদিন কীভাবে হিসেব করে চলতে হয়। আমিও সেই থেকে মিতব্যয়ী হয়েছি।’
অর্থকষ্ট মেটাতে নিজের গয়না পর্যন্ত বিক্রি করেছিলেন এই নায়িকা। সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে অপু বলেন, ‘আমি অনেক বেশি সোনার গয়না পরি। সোনার গয়না আমার খুব ভালো লাগে। তাই যখন নিয়মিত সিনেমা করতাম তখন দেশে কিংবা দেশের বাইরে যেখানেই কোন সোনার গয়না পছন্দ হয়ে যেত কিনে ফেলতাম। তখন তো কিনতাম শখ পূরণের জন্য। কিন্তু সেই গয়নাগুলোই যে আমার এমন বাজে পরিস্থিতিতে কাজে লাগবে কখনো কল্পনাও করিনি। ওই সময় আমার অনেকগুলো সোনার গয়না বিক্রি করে ভালো অংকের টাকা পাই। যা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলাম। এরপর তো আবার কাজে ফিরে একটু একটু করে নিজেকে গুছিয়ে নেবার চেষ্টা করছি।’
অপু বিশ্বাস মূলত বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমায় কাজ করেছেন এবং তাকে ঢালিউডের ‘নায়িকা নম্বর ওয়ান’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি নৃত্য, রূপ ও অভিব্যক্তির কারণে দর্শকের কাছে তিনি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১০-এর দশকে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া নায়িকাদের একজন।