ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি : ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৮টি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ৩১ জন আহত হয়েছেন। এ সময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকান্দা আব্দুল শরীফ একাডেমি সংলগ্ন এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যালয়ের ভেতরে আটকা পড়ে ছিলেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণকান্দা আব্দুল শরীফ একাডেমিতে শনিবার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল আবু জাহের এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদরুল আলম অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় পর্বে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তামিমকে (১৫) কয়েকজন কিশোর মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। তামিম মানিকদহ ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং অভিযুক্তরা হামিরদী ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া, ব্রাহ্মণকান্দা ও নাজিরপুর গ্রামের কয়েকশ মানুষ মহাসড়কে নেমে আসে। পাল্টা অবস্থান নেয় হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী এলাকার বিভিন্ন গ্রামের লোকজন। একপর্যায়ে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও প্রথম দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সংঘর্ষ চলাকালে মহাসড়কের দুই পাশে এবং পুখুরিয়া বাজারের কয়েকটি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল কবির বলেন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালে বিকেলের দিকে বিদ্যালয়ের গেটের বাইরে মারামারির খবর পান। কিছুক্ষণ পর একদল লোক ঢাল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে বিদ্যালয়ের সামনের দোকানপাট ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি খারাপ হলে বিদ্যালয় বন্ধ করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কক্ষে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম বলেন, বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সন্ধ্যার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয় এবং অবরুদ্ধদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিতে সহায়তা করা হয়।
