অনলাইন ডেস্ক : টানা ছয় দফা দাম বাড়ানোর পর এক দফা কমেছিল দেশের বাজারে সোনার দাম। তবে সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে আবারও বাড়ানো হলো সোনার দাম। এবার ভরিতে ৬ হাজার ২৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা। নতুন এই দামের মাধ্যমে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছাল সোনার দাম।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুপুর সোয়া ১২টা থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দামের পরিবর্তনের কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হবে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকায়।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
এর আগে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে ভরিতে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। সেই দাম শুক্রবার থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও দিনের অর্ধেক সময়ও টেকেনি।
সব মিলিয়ে চলতি বছরে দেশের বাজারে এ নিয়ে ১২ বারের মতো সোনার দাম সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে ৯ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩ দফা কমানো হয়েছে। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল।
সোনার দাম বাড়লেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দামে ৮ দফা সমন্বয় করা হয়েছে—এর মধ্যে ৫ দফা দাম বেড়েছে এবং ৩ দফা কমেছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ১৩ বার, যার মধ্যে ১০ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল।-ইত্তেফাক
