মমিনুল ইসলাম মুন, স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী নাচোল উপজেলার কামার জগদইল মেহের আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবর আলীর বিরুদ্ধে জাল শিক্ষাগত সনদের মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি প্রায় তিন যুগ ধরে শিক্ষকতা করে আসছেন।
এ অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর নাচোল উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে নেওয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধার অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অনেক অভিভাবক অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের দাবিও তুলেছেন।
জানা গেছে, গত ২১ জানুয়ারি একই গ্রামের বাসিন্দা এন্তাজ আলী নাচোল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, বাবর আলী ১৯৯০ সালের ১৫ অক্টোবর আমেরিকান ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি পাসের সনদ দেখিয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
অভিযোগকারী দাবি করেন, বাবর আলীর প্রদত্ত বিএ পাসের সনদটি সম্পূর্ণ ভুয়া। তিনি নিজেকে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী হিসেবে দাবি করলেও বাস্তবে তিনি কখনোই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ছিলেন না। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেখানে বাবর আলীর কোনো শিক্ষার্থী হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জাল সনদের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে শিক্ষকতা করে বাবর আলী সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাবদ লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সময়ের কথা ২৪ কে প্রধান শিক্ষক বাবর আলী তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে নাচোল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মজনু মিয়া জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
