নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার। সকাল ৯:০৫। ১৯ মার্চ, ২০২৬।

নিয়ামতপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ

মার্চ ১৭, ২০২৬ ৪:৫৯
Link Copied!

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ওপর দিয়ে মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড় বয়ে গেছে। গত রোববার (১৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে এই ঝড় বয়ে যায় । আকস্মিক এই ঝড়ে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে গোটা উপজেলা। অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় লোকজনের দৈনন্দিন কর্মকান্ড ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে পানি নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

এছাড়া ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বহু ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা। তীব্র দমকা হাওয়ায় অসংখ্য কাঁচা ও আধা পাকা ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। উপড়ে পড়েছে বড় বড় গাছ। ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমবাগান ও ফসলেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, আলুর সামান্য ক্ষতি হলেও
আম ও গমসহ অন্যান্য ফসলের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহী সীমান্তে বিপুল পরিমান ভারতীয় প্রশাধনী সামগ্রী আটক

ভাবিচা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা করমতুল্যা বলেন, ‘সোমবার সারাদিন ইউনিয়ন পরিষদে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল না। তাই অনলাইনের কোনো কাজ করা সম্ভব হয়নি। অনেকে সেবা নিতে এসে ঘুরে গেছেন।’

কয়াশ গ্রামের গৃহবধূ চানভানু বলেন, ‘রোববার ঝড় আসার কিছু আগে কারেন্ট চল্যা গেল। সোমবার সারাদিন সেই কারেন্ট আর আসেনি। মর্টার চালাতে না পেরে পানি নিয়ে খুব ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। অন্য বাড়ি থেকে পানি আনতে হয়েছে।’

আরও পড়ুনঃ  রাসিকের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন নবনিযুক্ত প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন

ভাবিচা গ্রামের দিলীপ অধিকারী বলেন, ‘রোববার রাতের ঝড়ে আমার দোতলা ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। কয়েকটা টিন খুঁজে পায়নি।’

নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়ামতপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ- মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোহম্মদ মেশবাহুল হক সোমবার রাতে জানান, ‘রোববারের আকস্মিক ঝড়ে মেইন লাইনসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তার ছিঁড়ে গেছে, পোল ভেঙে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কিছু এলাকায় সংযোগ চালু করা হয়েছে। বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন কাজ করছে। পর্য়ায়ক্রমে বাদবাকি লাইন চালু করা হবে।’

আরও পড়ুনঃ  নিয়ামতপুরে বিনোদনমূলক সাথী পার্কের উদ্বোধন

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, রোববার রাতের আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টিতে আলুর কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আলুগুলোকে রোদে শুকানোর জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে আম গুটি পর্যায়ে চলে এসেছে, গমও পরিপক্ব হয়ে গেছে। এই ঝড়ে আম ও গমের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হবে না বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুর্শিদা খাতুন বলেন, রোববার রাতের ঝড়ে উপজেলার অনেকের বাড়ি-ঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার ছবিসহ তাঁর (ইউএনও) বরাবর আবেদন করতে বলেছেন।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।