নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ শনিবার। রাত ৪:২৭। ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।

নিয়ামতপুরে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে শ্বেতশুভ্র শজনে ফুল

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ ৪:৫৪
Link Copied!

সবুজ সরকার, নিয়ামতপুর : গাছে গাছে নবীন পত্র, কোকিলের কুহুতান আর রংবেরঙের পুষ্পের সমাহারই বলে দিচ্ছে সময় এখন ঋতুরাজ বসন্তের। তার জন্য ক্যালেন্ডারের দিকে তাকানোর প্রয়োজন নেই। বসন্ত মানে শুধু ঋতু নয়, রঙের উৎসবও বটে। বাংলা বর্ষপঞ্জির বিদায়ের প্রাক্কালে প্রকৃতিকে রাঙিয়ে দেবার এ যেন এক অনবদ্য আয়োজন।

শিমুল-পলাশের পাশাপাশি বাংলার প্রকৃতিতে শোভা ছড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছে শ্বেতশুভ্র শজনে ফুল। নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার সর্বত্রই ফুটেছে শজনে ফুল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির আনাচে-কানাচে, রাস্তার পাশে, খেতের ধারে, পতিত জমিতে এবং বসতবাড়ির আঙিনায় শজনে গাছে সাদা ও হলুদাভ ফুলে ছেয়ে গেছে।

প্রকৃতির পরিসর ছাড়িয়ে শজনে ফুল আর ডাঁটা শিল্প সাহিত্যের আঙিনায় পৌঁছে গেছে। এই ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন ‘এখানে আকাশ নীল-নীলাভ আকাশজুড়ে সজিনার ফুল/ ফুটে থাকে হিম শাদা-রং তার আশ্বিনের আলোর মতন।

আরও পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মোদির শুভেচ্ছা, একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ

লেখক ও সাংবাদিক রজত কান্তি রায়ের একটি লেখায় ‘থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়’ প্রবাদটির মূল গল্প পাওয়া গেল। তিনি লিখেছেন, প্রবাদে থোড় মানে কলার থোড়, বড়ি মানে কুমড়ো বড়ি আর খাড়া অর্থাৎ শজনে। এই ছিল বাঙালি তরকারির অন্যতম প্রধান উপকরণ। বাঙালির রান্নাঘরে ঘুরেফিরেই এই তিন উপকরণ রান্না করা হতো বলে প্রবাদটির উৎপত্তি।

তিনি আরও লিখেছেন, “প্রচলিত বিশ্বাসে, বসন্ত রোগের মহৌষধ শজনে বসন্তকালেই হয়। কমবেশি এপ্রিল মাস পর্যন্ত এর জীবনচক্র। শজনে মূলত দুই ধরনের, একটি সবুজ রঙের লম্বা ও সরু হয়ে থাকে। এটিই আসলে শজনে। ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল/মে মাস পর্যন্ত পাওয়া যায় এটি। অন্যটি কিছুটা খয়েরি রঙের, একটু মোটা আর খাটো ধরনের হয়ে থাকে। এটিকে রায়খঞ্জন, নাজনা বা লাজনা নামে ডাকা হয় স্থানীয়ভাবে। সেটি প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। এর পাতা ‘নিউট্রিশনস সুপার ফুড’।”

আরও পড়ুনঃ  সিরিয়া-লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলের বোমা হামলায় ৪ জন নিহত

প্রকৃতি বিষয়ক লেখক মোকারম হোসেনের ‘বাংলাদেশের পুষ্প-বৃক্ষ লতা-গুল্ম’ বইয়ে শজনের কয়েকটি আঞ্চলিক নাম আছে। অঞ্চলভেদে একে সাজনা, শজনে ও সাজিনা নামে ডাকা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Moringa oleifera Lamk. বইটিতে বলা হয়েছে বসন্তের শুরুতে নতুন পাতা ও ফুল আসে। বারমাসি গাছগুলো চৈত্র থেকে কার্তিক পর্যন্ত ফল দেয়। পাতা একান্তর, দ্বিপক্ষল, ফ্যাকাশে সবুজ রঙের। কচি ফল ও পাতা আদর্শ সবজি, পাতায় প্রচুর আমিষ আছে। আদি আবাস ভারত ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ।

সরেজমিনে উপজেলার পাইকড়া বাজারে ভাবিচা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের সামনে রাস্তার ধারে কয়েকটা গাছভর্তি শজনে ফুল দেখা গেল । একটা গাছে কাঠবিড়ালি ফুল খাচ্ছিল। ছিল পাখি আর মৌমাছিদের আনাগোনা। কার্যালয়টির ইউনিয়ন সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তা দুলাল হোসেন বলেন, অফিসে আসা-যাওয়ার সময় কয়েকদিন আগে ফুলগুলো লক্ষ্য করলাম। গাছভর্তি শজনে ফুল দেখতে ভালোই লাগে। আমার মতো অনেকেই ফুলগুলোর দিকে চেয়ে থাকে। শজনে ফুলেরও একটা সৌন্দর্য রয়েছে ভালোভাবে খেয়াল না করলে বুঝতে পারতাম না।’

আরও পড়ুনঃ  তারেক রহমানের বিভাগ রাজশাহী থেকে মন্ত্রিত্বের আলোচনায় ৭ মুখ

ভাবিচা গ্রামের বাসিন্দা ও সহকারী শিক্ষক শ্যামল সরকার বাড়ির সামনে শজনের গাছ লাগিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতিতে ফোটা এই সজনে ফুলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এ গাছ একটি উপকারী ভেষজ ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ গাছ। এর পাতা, ফল ও ফুল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি খুব পরিচিত একটি গাছ।’

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, শজনে ডাঁটাকে ‘পুষ্টির ডিনামাইট’ বলা হয়। নিয়ামতপুরসহ নওগাঁর প্রত্যেক উপজেলায় প্রচুর শজনে উৎপাদন হয়। শজনে ডাঁটার সংগ্রহের পর ডাল কেটে লাগিয়ে দিলেই তা থেকে গাছ হয়। বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। শজনের পাতার পুষ্টিগুণও প্রচুর। পাতা গুড়া করে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য উদ্যােক্তাদের আহবান জানান তিনি।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।