স্টাফ রিপোর্টার : মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুর দড়েটায় রাজশাহী রেলভবনের সম্মেলন কক্ষে গতকাল ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলপথের পূর্ব চন্ডীপুর এলাকায় পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটির দুর্ঘটনা হতে রক্ষাকারী ব্যক্তি মো. এনামুল হককে সম্মাননা প্রদান করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ। আজ এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানরে মাধ্যমে তাকে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট এবং নগদ অর্থ প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ বলেন, গতকাল (২৩ মার্চ) নিজের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে বিরামপুরে নিশ্চিত ট্রেন দুর্ঘটনা কবল থেকে কয়েক’শ মানুষকে বাঁচানোর ঘটনায় স্থানীয় এনামুল হককে সম্মাননা প্রদানের জন্য রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ প্রদান করেন। এই সম্মননা প্রদানের জন্যই আমরা আজ এখানে সমবেত হয়েছি।
সভাপতি বলেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো, হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারতো সেখান উনি একটা পরিত্রানের ব্যবস্থা করেছেন। তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে ট্রেনকে থামিয়ে দিয়েছেন। আমি প্রথমে ওনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা দেখেছি যারা দীর্ঘদিন ধরে রেললাইনের কাছে বসবাস করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন ভ্রমণ করেন তারা বিভিন্ন সময়ে আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। এতে রেল পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হয়। এনামুল হকও তেমনি আমাদের উপকার করেছেন। তাকে আবারো অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমাদের পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ অনেক পুরানো, এটা সংস্কারের প্রয়োজন। সংস্কারের লক্ষ্যে একটা প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এটা একনেকে উঠবে এবং তা বাস্তবায়ন হলে রেলপথের সংস্কার হবে এবং রেলপথটা আরও নিরাপদ ও চলাচলের উপযোগী হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের অফিসের যে কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে তাদের একটা গ্যাং থাকে। এ গ্যাং সাত কিলোমিটার পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে থাকে। তারা বিভিন্ন সময়ে রেলওয়ের বিভিন্ন ত্রুটিগুলো পর্যবেক্ষণ করে থাকে। এমন সময় অনেক ঘটনা ঘটে সেগুলো হয়তো তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। এক্ষেত্রে জনগণ আমাদেরকে সহায়তা করে থাকে।
দুর্ঘটনা হতে রক্ষাকারী মো. এনামুল হক তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলনে, ফুলবাড়ী-বরিামপুর রেলওয়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ব চন্ডীপুর এলাকায় রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী-ঢাকা রেলপথের প্রায় এক ফুট অংশ ভাঙা দেখতে পাই। তখন কী করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। দ্রুত পাশ্ববর্তী এলাকার লোকজনকে রেলওয়ে অফিসে ফোন করতে বলি এবং লাল কাপড়ের বদলে কলার মোচা কেটে কলার মোচার পাঁপড়ি লাঠিতে বেঁধে রেলনাইনে দাঁড়িয়ে যাই। মিনিটি পাঁচেকের মধ্যে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলে আসে এবং আমার সেই সিগন্যাল দেখে ট্রেনেটি নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে যায়। এ কাজটি করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি এবং মহান আল্লাহ তায়ালার আদায় করছি।
অনুষ্ঠানে পশ্চিমাঞ্চল রেলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ হোসেন মাসুদ।
