নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ শনিবার। সকাল ১০:৫৫। ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬।

প্রত্যেকটি মেয়ের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের হাতে রূপান্তরিত করব : জামায়াত আমির

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬ ১:২৬
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা.শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রত্যেকটি মেয়ের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের হাতে রূপান্তরিত করব এবং তাদের হাতে মর্যাদাপূর্ণ কাজ তুলে দেব। মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত সরকারি খরচে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে।

শুক্রবার রাতে কুমিল্লা নগরীর ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা বেকারদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেব না। আমাদের যুবসমাজ বেকার ভাতা পাওয়ার জন্য লড়াই করেনি। তারা লড়াই করেছে কাজের অধিকার পাওয়ার জন্য। আমরা প্রত্যেকটি যুবকের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের হাতে পরিণত করব ইনশাল্লাহ।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি আর দেখতে চাই না। রাজা হলে রাজা হবে তার ছেলে ু যোগ্যতা থাকুক বা না থাকুক, রানী হলে রানী হবে তার মেয়ে- যোগ্যতা থাকুক কিংবা না থাকুক-এই ধরনের রাজনীতিই বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। এ রাজনীতি দেশকে দুর্নীতিতে ডুবিয়ে দিয়েছিল এবং মানুষের সকল অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা শিক্ষা ও ন্যায়বিচারের শাসন কায়েম করতে চাই। মেধা ও যোগ্যতা থাকলে একজন রিকশাচালক ভাইয়ের সন্তানও এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে।

তাকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও থাকবে না। আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বিগত সময়ে যারা দেশ পরিচালনা করেছেন তারা একটি গোষ্ঠী ছাড়া সারা দেশের মানুষের ওপর প্রতিশোধের রাজনীতি চালিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২০

আমরা কোনো প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। যে প্রতিশোধের রাজনীতি আমাদের এবং দেশবাসীকে কষ্ট দিয়েছে, আমরা তাকে হারাম মনে করি। রাজনীতি হবে নীতির, সুনীতির মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, অতীতে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী, এটি একটি মজলুম দল।

তিনি আরও বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের রাজনীতি আমরা করিনি। আমরা করেছি শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি। আমরা প্রত্যেকটি শহীদ পরিবারের কাছে গিয়ে বলেছি, আজ থেকে আমরা আপনাদের পরিবারের সদস্য। আপনাদের সুখ আমাদের সুখ, আপনাদের দুঃখ আমাদের দুঃখ। যারা রিকশাচালক, শ্রমিক, গার্মেন্টসকর্মী ও দিনমজুর ছিলেন তারা আপনাদের অধিকার আদায়ের জন্য এবং দেশবাসীকে মুক্তির জন্য জীবন দিয়েছেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ পরিবারগুলোর কাছে গিয়ে আমরা চোখের পানি নয়, চোখে রক্তের ফোঁটা দেখেছি। শিশুদের প্রশ্ন – ‘আমার বাবা কবে আসবে?’-এর কোনো উত্তর আমাদের কাছে ছিল না। গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের প্রশ্নেরও কোনো জবাব ছিল না। মামলা, হামলা ও নিপীড়নের মাধ্যমে মানুষকে তছনছ করা হয়েছিল। এরপর জুলাই এসেছে আল্লাহর নিয়ামত হিসেবে। আমাদের উচিত ছিল আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করা এবং নিজেকে ও জাতিকে পরিবর্তন করা। কেউ পরিবর্তনের পথে এগিয়েছে, আবার কেউ ফ্যাসিবাদের মতো পুরনো অপকর্মে ফিরে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুব সমাজ একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে -জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ, বস্তাপচা রাজনীতির পরিবর্তনের বাংলাদেশ। ১৩ ফেব্রয়ারি নতুন বাংলাদেশের জন্য আমরা দুটি ভোট দেব। প্রথম ভোট হবে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, আর ‘না’ মানে গোলামী।

তিনি বলেন, যারা সংস্কার চায় না, যারা বস্তাপচা ও ফ্যাসিবাদী রাজনীতি চালাতে চায়-তারা ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলে আমরা আশা করি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা এই ময়দান থেকেই ঘোষণা দিয়েছিলাম-কুমিল্লা বিভাগ হবে এবং কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে। যেহেতু আমরা ঘোষণা দিয়েছি, এটি বাস্তবায়ন করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। ক্ষমতায় না এলেও এই বিভাগ ঘোষণার জন্য আমরা জনগণের চাপ সৃষ্টি করব ইনশাল্লাহ।

তিনি বলেন, কুমিল্লা ইপিজেডের সঙ্গে বিমানবন্দর ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইনশাল্লাহ বিমানবন্দর চালু হবে। বিমানবন্দর চালু হলে এটিকে কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ইপিজেডকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হলে এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্বাভাবিকভাবেই বিমান চলাচল বাড়বে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য, কুমিল্লা-১১ আসনের প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কুমিল্লা অঞ্চল পরিচালক মাওলানা এ টি এম মা’ছুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম এবং এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।

আরও পড়ুনঃ  চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে উঠলো যারা

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির ও কুমিল্লা আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মু. মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, উত্তর জেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল মতিনসহ জেলার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা।

সমাবেশে কুমিল্লা-১০ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত, কুমিল্লা-৮ আসনের প্রার্থী ড. শফিকুল আলম হেলাল, কুমিল্লা-৫ আসনের প্রার্থী ড. মোবারক হোসেন, কুমিল্লা-৯ আসনের প্রার্থী ড. ছৈয়দ সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী, কুমিল্লা-৭ আসনের ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা সোলায়মান খান, কুমিল্লা-৩ আসনের প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেল, কুমিল্লা-২ আসনের প্রার্থী নাজিম উদ্দিন মোল্লা এবং কুমিল্লা-১ আসনের প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহালুল বক্তব্য দেন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জাকুসু জিএস মাজহারুল ইসলাম, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মু. মোসলেহ উদ্দিন ও অধ্যাপক এ কে এম এমদাদুল হক মামুন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, এনসিপি অঞ্চল সমন্বয়ক নভিদ নওরজ শাহ, খেলাফত মজলিশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং শরিক দলের প্রতিনিধিরা।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।