নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার কৃষকদের ধান বীজ ও পশুকে টিকা দেওয়া হবে : কৃষিমন্ত্রী

জুলাই ১৭, ২০২৬ ৪:০৫ 👁️ ৭১ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার কৃষকদের ধান বীজ ও চারা দেওয়া হবে এবং পনের দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদি পশুকে টিকা দেওয়া হবে।

মন্ত্রী শুক্রবার (১৭ জুলাই) চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও খামারীদের মাঝে ধান বীজ ও উপকরণ বিতরণ এবং গবাদি পশুকে টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, চলমান বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন ধানের বীজতলা। বন্যার পানি আসার আগেই কৃষকরা বীজতলা প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের বেশি পানির নিচে থাকায় চারার উপযোগিতা নষ্ট হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিয়ন ও ব্লক পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় বীজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

তিনি বলেন, যেসব কৃষকের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, তাদের হাতে দ্রুত বীজ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আর যাদের জমি এখনও পানির নিচে রয়েছে এবং বীজ বোনার সুযোগ নেই, তাদের জন্য সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে বিকল্প বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে উৎপাদিত চারা পনের থেকে বিশ দিন পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বন্যার পর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয় খুরা রোগ ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের। তাই আজ থেকেই বন্যাকবলিত পাঁচ জেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং আগামী পনের দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি বন্যার কারণে সৃষ্ট গোখাদ্যের সংকট মোকাবিলায় প্রথম ধাপে ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতেও সহায়তা বাড়ানো হবে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুনঃ  ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় নিহত অন্তত ৭

মন্ত্রী বলেন, মাছ চাষেও কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে মাঠ পর্যায়ে জরিপ চলছে। জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষক যাতে উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করতে পারেন, সেজন্য সারা দেশে পর্যায়ক্রমে প্রায় দুই হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উৎপাদন এলাকার কাছেই এসব সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হবে, যাতে কৃষক অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় ছাড়াই ফসল সংরক্ষণ করতে পারেন এবং বাজারে ভালো দাম পেলে বিক্রি করতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ  পুনর্বাসন ছাড়া বস্তি উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে নগরীতে মানববন্ধন

তিনি আরো বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা কমাতে অবৈধভাবে দখল হওয়া সরকারি খাল উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় খনন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যেখানে সরকারি খাল দখল হয়েছে, সেগুলো দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

এর আগে মন্ত্রী চট্টগ্রাম জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বীজতলায় নিজ হাতে ধান বীজ বপন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ধান বীজ বিতরণ করেন, মৎস্যচাষীদের মধ্যে পুকুর পুনর্বাসনের উপকরণ, খামরীদের মাঝে গোখাদ্য বিতরণ এবং গবাদী পশুকে এফএমডি ও পিপিআর রোগের টিকা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
#

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।