স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ছয় মাস ধরে বন্ধ থাকায় মুমূর্ষু রোগীরা হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছেন না। জ্বালানি বিল বকেয়ার কারণে চালকরা গাড়ি চালাতে পারছেন না, ফলে জরুরি রোগীদের সেবা এখন বেসরকারি যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল, যা রোগী ও তাদের পরিবারকে অতিরিক্ত খরচ ও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চারটি ইউনিয়নকে সেবা প্রদান করে। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। জটিল বা মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায়ই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করতে হয়। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে রেফারাল ভাড়া ২ হাজার ২০০ টাকা হলেও বন্ধ থাকায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স বা মাইক্রোবাস ব্যবহার করতে হচ্ছে, যেখানে খরচ বেড়ে ৩ হাজার থেকে ৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছে। দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য এটি অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
ভুক্তভোগী স্বজনরা অভিযোগ করেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করতে না পারা অত্যন্ত দুঃখজনক। জরুরি মুহূর্তে বেসরকারি গাড়ি খুঁজতে গিয়ে সময় ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে, এবং অনেক ক্ষেত্রে দালালচক্রের কারণে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। রোগী মাসুদ-এর স্বজন বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলে আমরা সাশ্রয়ী মূল্যে রাজশাহী যেতে পারতাম। এখন প্রতিবার পকেট থেকে ১,০০০-১,৫০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে।
ঘটনার তদন্তে জানা গেছে, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের জন্য যে পেট্রোল পাম্প থেকে তেল সরবরাহ হতো, সেখানে বকেয়া বিল দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে মাত্র ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১১ লাখ টাকা না দেওয়ায় পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন।
ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. শোভন পাল বলেন, বকেয়া প্রায় ১১ লাখ টাকা থাকার কারণে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় নেই। সরকারি বরাদ্দ পর্যাপ্ত না হওয়ায় সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে অবহিত করেছি, কিন্তু এখনও কার্যকর সমাধান আসেনি।
স্থানীয় জনসাধারণের দাবী এই সমস্যার আশু সমাধান ও বকেয়া বিল পরিশোধের মাধ্যমে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সচল করার দাবি জানিয়েছেন তারা , যাতে সীমান্তবর্তী এ অঞ্লের মানুষ জরুরি সেবা গ্রহণে ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারেন।
