অনলাইন ডেস্ক : মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর প্রথমবার প্রকাশ্যে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। শনিবার (৩০ আগস্ট) ট্রাম্পকে ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসের সাউথ লন থেকে একটি পারিবারিক গলফ ট্রিপে যেতে দেখা যায়। এসময় তিনি নাতি কাই ট্রাম্প (১৮) ও স্পেন্সার ট্রাম্পের (১২) সঙ্গে গাড়িতে উঠছিলেন।
ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য ঘিরে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) এক্সে ‘ট্রাম্প মৃত’ ও ‘ট্রাম্প কোথায়’ ট্রেন্ড হওয়ার পর জনসমক্ষে এলেন তিনি।
পারিবারিক গলফ ট্রিপে ট্রাম্প সাদা পলো শার্ট, কালো পেন্ট ও লাল ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ ক্যাপ পরেছেন।
স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছুক্ষণ পর প্রেসিডেন্টের গাড়িবহর ভার্জিনিয়ার স্টার্লিংয়ে অবস্থিত ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ কোর্সে পৌঁছায়।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ আগস্ট মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডের ম্যাট গ্রোনিংকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন জেডি ভ্যান্স। ওই সাক্ষাৎকারে মার্কিন এই ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ভয়াবহ কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডার ইন চিফের ভূমিকা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন কি না?
জবাবে ৭৯ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সুস্থ ও উদ্যমী হিসেবে উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, অপ্রত্যাশিত কোনও ঘটনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভ্যান্সের এমন মন্তব্যের পর থেকে গত কয়েক দিন ধরে এক্সে ‘ট্রাম্প মৃত’ (Trump Is Dead) বাক্যটি এক্সে ট্রেন্ডিংয়ে পরিণত হয়েছে।
ইউএসএ টুডেকে ভ্যান্স বলেন, তিনি রাতের বেলা ফোন কল করা শেষ ব্যক্তি এবং সকালে উঠে প্রথম ব্যক্তি হিসেবেও তিনি ফোন কল করা শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘‘হ্যাঁ, ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু আমি খুব আত্মবিশ্বাসী যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সুস্থ আছেন, তার মেয়াদ শেষ করবেন এবং আমেরিকান জনগণের জন্য মহান কাজ করবেন।’’
‘‘আর সৃষ্টিকর্তা না করুক, যদি কোনও ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে গত ২০০ দিনে যা অভিজ্ঞতা পেয়েছি, তার চেয়ে ভালো প্রশিক্ষণ আমি কল্পনাও করতে পারি না।’’
ট্রাম্পের উত্তরাধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভ্যান্সের এই মন্তব্যের কারণে গত কয়েক দিন ‘ট্রাম্প মৃত’ বাক্যটি এক্সের ট্রেন্ডিংয়ে জায়গা করে নিয়েছে। যদিও সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের উদ্বেগের খবরও দেশটির সংবাদমাধ্যমে দেখা গেছে।
গত জুলাইয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি’ রোগে আক্রান্ত বলে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে। শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার এই রোগের কারণে পা ফুলে যায়। সরকারি ঘোষণার আগেও ট্রাম্পের ফোলা পায়ের ছবি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়।
দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় প্রচারণা চালাতে গিয়ে অন্তত দু’বার হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও এই হত্যাচেষ্টা অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর ভুয়া খবর অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে হ্যাকিংয়ের শিকার হয় ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের এক্স অ্যাকাউন্ট।
সেই সময় হ্যাকার এক্সে একটি ভুয়া বার্তা পোস্ট করে বলেন, তার বাবা ডোনাল্ড ট্রাম্প মারা গেছেন এবং তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে ট্রুথ সোশ্যালে নিজের মৃত্যুর তথ্যকে ভুয়া বলে দাবি করেন এবং সমর্থকদের জানান, তিনি বেঁচে আছেন।