স্টাফ রিপোর্টার : ১৯৭৫ সালের পরবর্তী সময়ে সিপাহী-জনতা মেজর জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করতে বিপ্লব ঘটায়। পরে তাদের অনুরোধে তিনি দেশের হাল ধরেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি গঠন করেন। বিএনপি’র ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্র ঘোষিত সাতদিনব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব কথা বলেছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।
মিলন বলেন, জিয়াউর রহমান দেশকে একনায়কতন্ত্র থেকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। কৃষিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করেন এবং কৃষিতে বিপ্লব ঘটান। বর্তমানে নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, কিছু ছোট দল যাদের কোনো জনসমর্থন নেই, তারাই রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। স্বাধীনতা বিরোধী একটি দল আবারও পিআর পদ্ধতি দাবি করছে। তারা কখনো এ দেশের কল্যাণ চায়নি, স্বাধীন বাংলাদেশও চায়নি। এখনো বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অফিস দখলের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
তিনি আরো বলেন, জামায়াত মনে করছে এভাবেই তারা ক্ষমতায় যেতে পারবে। কিন্তু বিএনপি কখনো দখলবাজিতে বিশ্বাস করে না। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরেরদিনই জনগণের জানমাল রক্ষার নির্দেশ দেন, যা এখনো বিএনপি পালন করছে। অথচ স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এটিকে দুর্বলতা মনে করছে। তারা ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করছে যে ক্ষমতা ইতিমধ্যেই তাদের হাতে চলে এসেছে।
দেশের অরাজক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মিলন বলেন, শুক্রবার গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সাবেক ভিপি নুরুল ইসলাম নুরকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিনা কারণে মারধর করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এ সময় তিনি আরো বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরবেন—এ নিয়েও ষড়যন্ত্র চলছে। এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতেও নির্দেশনা দেন।
পিআর পদ্ধতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই দাবি কোনোভাবেই বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না। এ দেশের জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচন করে। সেই ধারাই অব্যাহত থাকবে।
বক্তব্যের শেষদিকে মিলন সাতদিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং এসব কর্মসূচিতে নেতাকর্মী ও জনগণের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
শুক্রবার বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর বিসিক এলাকায় পবা উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি রাজশাহী শাখার সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান সাজাহান আলী। সভা সঞ্চালনা করেন পবা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—পবা উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম মাস্টার ও আব্দুল মান্নাফ মুন্নাফ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা, দামকুড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক এনামুল হক কনক ও সদস্য সচিব নওশাদ আলী, পারিলা ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক রেজাউল করিম ও সদস্য সচিব মোখলেসুর রহমান রেন্টু, হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন, হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাজিম উদ্দীন এবং পবা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান।