নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ শুক্রবার। রাত ১১:২৩। ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।

লাশ পোড়ানোর মামলায় ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড ও সাত আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ ৪:০৫
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন আশুলিয়ায় ছয় জনের লাশ পোড়ানোসহ অপর একজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক, এমপি, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়াও এ মামলায় আরও সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সেই সাথে অপর দুই আসামিকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও একমাত্র রাজসাক্ষীকে খালাস দেয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক এসআই আবদুল মালেক, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।

আজকের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা সাত আসামি হলেন-ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস ও সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান।

আরও পড়ুনঃ  নির্বাচিত হলে নগরীর প্রত্যেক নাগরিকের সকল সুবিধা নিশ্চিত করা হবে : মেজবা

এছাড়া, আজকের রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন সাবেক এসআই আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসান। আর এই মামলায় রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হককে খালাস দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আজকের রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।

ট্রাইব্যুনালে এই মামলায় প্রসিকিউসন পক্ষে শুনানিতে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামীম, বি এম সুলতান মাহমুদ, ফারুক আহমেদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান সহ অপর প্রসিকিউটররা। চার আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।

আরও পড়ুনঃ  বাগমারার বাসুপাড়ায় জামায়াত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারীর গণসংযোগ ও পথসভা

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান নির্মূলে পরিচালিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘোষিত তৃতীয় রায়।

এই মামলায় গ্রেফতার আট আসামি হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন আরজু, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।

আসামিদের মধ্যে শেখ আবজালুল হক রাজসাক্ষী হয়ে শহীদদের পরিবারসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে জবানবন্দি দেন।

আরও পড়ুনঃ  বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেলের দাবিতে রাজশাহীতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি

ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ এ মামলার পলাতক আট আসামি হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় যুবলীগ লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর এই মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। পরবর্তীতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ছয়জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করার পর পুলিশ তাদের লাশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে একজন জীবিত ছিলেন, কিন্তু তাকে বাঁচতে দেওয়া হয়নি।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।