নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ শুক্রবার। দুপুর ১২:৪৯। ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬।

৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর স্থগিত করল ইরান

জানুয়ারি ১৬, ২০২৬ ১০:০৪
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি কার্যকর স্থগিত করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য।

ব্রিফিংয়ে ক্যারোলিন লিভিট বলেন, “আমাদের প্রেসিডেন্টের কাছে তথ্য এসেছে যে ইরান ৮০০ জন বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা স্থগিত করেছে। এই বিক্ষোভকারীদের আজ (বুধবার) ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল।”

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের চাপের জেরে ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন তিনি।

গত প্রায় ২০ দিন ধরে দেশজুড়ে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে রীতিমতো কেঁপে উঠেছে ইরান। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লাবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসীন হওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রি সরকার তাদের শাসনামলের ৪৭ বছরে এত বড় মাত্রার বিক্ষোভ-আন্দোলন প্রত্যক্ষ করেনি।

আরও পড়ুনঃ  নিয়ামতপুরে সাংবাদিকদের সাথে বিএনপির প্রার্থীর মতবিনিময়

এই আন্দোলন-বিক্ষোভ উস্কে ওঠার প্রাথমিক কারণ দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি । বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।

বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে ২০০ পিছ ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১

জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ।

এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত।

এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

আরও পড়ুনঃ  শিক্ষা সপ্তাহ সুকুমার বৃত্তি প্রকাশের একটি প্লাটফর্ম : অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার

বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে ইন্টারনেট-মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করেছে ইরান, সেই সঙ্গে দেশজুড়ে মোতায়েনপুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করেছে সেনাবাহিনী। জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংখাতে ইতোমধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।

এদিকে, বিক্ষোভের শুরু থেকেই ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ উস্কে ওঠার পর থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েক বার এ হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

তবে বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণে ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা কম।

সূত্র : এএফপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।