অনলাইন ডেস্ক : প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ দ্রুত জারির দাবিতে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি মিছিল নিয়ে এসে তারা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন।
এতে সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর ও ধানমন্ডিসংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
অবরোধের ফলে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগীবাহী যানবাহনসহ সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে অবস্থান নিতে দেখা গেলেও শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হয়নি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন, ২০২৫’-এর হালনাগাদ খসড়ার অনুমোদন দিতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনগুলোতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাত কলেজের সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন, ২০২৫’-এর খসড়া গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে একাধিক দফা পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই আলোচনার ভিত্তিতে খসড়াটি হালনাগাদ করা হয়।
তাদের অভিযোগ, গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে টানা অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই অধ্যাদেশ জারির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আশ্বাস অনুযায়ী কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
এক শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বলেন, অধ্যাদেশ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে আছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বিলম্ব হলে আমাদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসনিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি পূরণের লক্ষ্যেই এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরবর্তী ধাপে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি গ্রহণ এবং লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং সম্পন্ন করা হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ করে অধ্যাদেশটি উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার দ্রুত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানান তারা।
