নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ বুধবার। রাত ৯:০৩। ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬।

বিক্ষোভকারী সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে ইরান, আশঙ্কা পশ্চিমাদের

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৫:২৯
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটিতে চলমান সংকটে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার খবরের মধ্যেই এই হুমকি দিলেন তিনি।

সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তারা যদি এমন কিছু (ফাঁসি কার্যকর) করে, তবে আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেব। মঙ্গলবার রাতে সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানের ভেতরে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে ব্রিফিং করার কথা ছিল।

এদিকে, গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর মধ্যে এরফান সোলতানি নামের একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের পর তার বিচার ও সাজা ঘোষণার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করায় এই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তেহরানের উত্তর-পশ্চিম উপকণ্ঠের শহর কারাজ থেকে ২৬ বছর বয়সী ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে, যখন বিক্ষোভ তুঙ্গে ছিল, তখনই তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সোলতানির বিষয়টি সামনে এনে সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ ভিন্নমত দমন করতে আবারও ‘তড়িঘড়ি বিচার এবং খামখেয়ালি মৃত্যুদণ্ড’ কার্যকরের পথ বেছে নিতে পারে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার গোষ্ঠী ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর তথ্যমতে, গত বছর ইরানে অন্তত ১ হাজার ৫০০ মানুষের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নিয়ামতপুরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

এদিকে সিবিএস নিউজকে ট্রাম্প জানান, গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভে যে ‘বিপুল সংখ্যক’ মানুষ নিহত হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত আছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোরে ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ২ হাজার ৫৭১ জনে। নিহতদের মধ্যে ১২ শিশুও রয়েছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে দেশটিতে যেকোনো বিক্ষোভ বা অস্থিরতায় প্রাণহানির এই সংখ্যা সর্বোচ্চ, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময়কার ভয়াবহতাকেও মনে করিয়ে দিচ্ছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ১০০-র বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রথমবারের মতো এই প্রাণহানির খবর সরকারিভাবে স্বীকার করে নিয়েছে। একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে টেলিভিশনটি জানিয়েছে, দেশটিতে ‘অনেক মানুষ শহীদ হয়েছেন’।

আরও পড়ুনঃ  নারায়ণগঞ্জে সিমেন্ট কারখানায় বিস্ফোরণ, ৮ শ্রমিক দগ্ধ

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। বেশ কিছু পশ্চিমা দেশও তাদের নাগরিকদের জন্য একই ধরনের ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে।

সিবিএস নিউজের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল— ইরানে বুধবার থেকে যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা শোনা যাচ্ছে, সে বিষয়ে তার মন্তব্য কী এবং ‘কঠোর ব্যবস্থা’ বলতে তিনি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন হামলা এবং ২০১৯ সালে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) তৎকালীন নেতা আবু বকর আল-বাগদাদিকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে ইরান সরকারকে সতর্ক করেন।

ট্রাম্প বলেন, “ইরানে যা ঘটছে, আমরা তা দেখতে চাই না… যখন তারা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে শুরু করে। আর এখন আপনারা আমাকে ফাঁসির কথা বলছেন। দেখা যাক এর পরিণতি কী হয়। তাদের জন্য ফলাফল মোটেও ভালো হবে না।”

এর আগে, ট্রাম্প তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি বার্তা পোস্ট করেন।

বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, “ইরানের দেশপ্রেমিকেরা, আপনারা বিক্ষোভ চালিয়ে যান— আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর দখল নিন! খুনি ও অত্যাচারীদের নাম মনে রাখুন। তাদের এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে। বিক্ষোভকারীদের ওপর এই অবিবেচনাপ্রসূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছি। সাহায্য আসছে।”

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহী এডিটরস ফোরামের সাথে সম্মিলিত ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের মতবিনিময়

ট্রাম্পের এমন বার্তার প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের এই ‘পুরোনো চাল’ আবারও ‘ব্যর্থ হবে’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরান জানায়, “যুক্তরাষ্ট্রের কল্পনা এবং ইরান নীতি মূলত শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যেই তৈরি। সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করতে নিষেধাজ্ঞা, হুমকি এবং সুপরিকল্পিত অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাই তাদের কাজের ধরন।”

ইরানের ওপর মার্কিন চাপের তীব্র সমালোচনা করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, ইরানবিরোধী বহিঃশক্তিগুলো জনগণের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে পুঁজি করে দেশটির রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল ও ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে টানা কয়েক রাতের গণবিক্ষোভের পর পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।