নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ বুধবার। রাত ১১:৫৮। ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬।

তানোরের তালন্দ কলেজে নিয়োগ ঘিরে কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৮:৫৩
Link Copied!

মমিনুল ইসলাম মুন, স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ ও কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই অর্থের বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থী নিয়োগ দিতে গভর্নিং বডির সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং কয়েকজন রাজনৈতিক পরিচয়ধারী শিক্ষক নেতা তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় তালন্দ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম গত ১১ জানুয়ারি রাজশাহীর জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের অনুলিপি ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ট্রেজারার, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বরাবর।

আরও পড়ুনঃ  রোববার থেকে চলবে বেনাপোল-খুলনা-মোংলা রুটে চলাচলকারী বেনাপোল কমিউটার ট্রেন

একাধিক সূত্র জানায়, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেলিম উদ্দিন কবিরাজকে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর নেতৃত্বে এবং কয়েকজন রাজনৈতিক শিক্ষক নেতার তদবিরে প্রায় কোটি টাকার বিনিময়ে অধ্যক্ষসহ চারটি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অধ্যক্ষ পদে কলেজের মাত্র দুইজন শিক্ষককে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। অন্য যোগ্য শিক্ষকদের আবেদন করতে দেওয়া হয়নি। অভিযোগকারীর দাবি, শিক্ষক ওমর আলীকে অধ্যক্ষ পদে এবং চারজন কর্মচারী নিয়োগের লক্ষ্যে প্রায় কোটি টাকার লেনদেনের বিনিময়ে আগামী ১৬ জানুয়ারি নিয়োগ বোর্ড বসানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের ৬ অক্টোবর সাবিহা সুলতানা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে চাইলে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, চাপের মুখে তাঁকে দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য করা হয়। পরে জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন দেওয়া হয়, যা সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে বিভক্তি ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে আটক নাটোর পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, নির্ধারিত দিনে কলেজে নিয়োগ বোর্ড বসলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। এর আগেও গত ২ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় শোক দিবস চলাকালে নিয়োগ বোর্ড আয়োজনের চেষ্টা করা হলে স্থানীয়দের বাধার মুখে তা স্থগিত হয়।

অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি পরিপত্রে কলেজের কর্মচারী নিয়োগ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এবং অধ্যক্ষ নিয়োগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে করার নির্দেশনা থাকলেও সংশ্লিষ্টরা তা উপেক্ষা করে নিয়োগ বোর্ড আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সভাপতির স্বজনকে নিয়োগ দেওয়ার গুঞ্জনও এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে প্রভাষক ওমর আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, মেধার ভিত্তিতেই সব নিয়োগ হবে এবং কোনো অনিয়ম হবে না। টাকা লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরীক্ষার ফল ভালো হলে নিয়োগ হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশের খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে ভারতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে গভর্নিং বডির সভাপতি ও সদস্যরাই বিস্তারিত বলতে পারবেন। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তিনি সিনিয়র শিক্ষকদের একজন এবং গভর্নিং বডি তাঁকে উপযুক্ত মনে করেই দায়িত্ব দিয়েছে। তাঁর দাবি, পরিপত্র জারির আগেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ায় নিয়োগ দেওয়া সম্ভব।

গভর্নিং বডির সভাপতি সেলিম উদ্দিন কবিরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং অশালীন ভাষায় কথা বলেন। অভিযোগকারীকে উদ্দেশ করে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেন।

এদিকে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।