অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক চাঞ্চল্যকর দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত দুই দিনে পরিচালিত ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর পাল্টা হামলায় অন্তত ৬৫০ জন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আইআরজিসি মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েনি এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে জানান, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই অভিযানের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীর অবকাঠামোতে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বহু সেনা আহত বা নিহত হয়েছেন।
নায়েনি আরও বলেন, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক সফল আঘাত হয়েছে। বিশেষভাবে একটি হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা বিধ্বস্ত হয়, যেখানে অন্তত ১৬০ জন মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, মার্কিন নৌবাহিনীর এমএসটি কমব্যাট সাপোর্ট জাহাজ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পেন্টাগন এখন পর্যন্ত এই দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।
আইআরজিসি জানায়, ইরানি নৌবাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন সংলগ্ন এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে।
নায়েনি জানান, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের চাবাহার উপকূল থেকে প্রায় ২৫০–৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত রণতরীটিকে লক্ষ্য করে চারটি শক্তিশালী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারটি দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের দিকে সরে যায়।
সংঘর্ষের পেছনের প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচিসংক্রান্ত আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানের ওপর হামলা চালায়। এই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করে।
