মমিনুল ইসলাম মুন, স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গ্রোগ্রাম ইউনিয়নের কমলাপুর বিল বিষাক্ত বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নাবিল গ্রুপের পোল্ট্রি ও ডেইরি খামারের বর্জ্য বিশেষ করে মুরগির বিষ্ঠা কোনো ধরনের পরিবেশগত নিয়ম না মেনে যত্রতত্র ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গতকাল রাতে নাবিল গ্রুপের বর্জ্যবাহী দুটি ট্রাক এলাকাবাসী আটক করে। পরে প্রেমতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নির্দেশে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। বিকেলে পরিবেশ অধিদপ্তরের সরকারি পরিচালক কবির হোসেন এবং গোদাগাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি শামসুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের বক্তব্য শোনেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সহকারী কমিশনার ভূমি শামসুল ইসলাম বলেন পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত মামলা পরিচালনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে কমলাপুর বিলসহ আশপাশের জলাশয় ও খোলা জায়গায় প্রতিদিন ট্রাকভর্তি বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে পানি দূষিত হয়ে কৃষিকাজের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে এবং পুরো এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান যেখানে সেখানে মুরগির বিষ্ঠা ফেলার কারণে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কৃষকরা জমিতে কাজ করতে পারছেন না এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ত্বকের রোগসহ নানা স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিচ্ছে।
নাবিল গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে তারা সরাসরি বর্জ্য অপসারণ করে না বরং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই তৃতীয় পক্ষ কোনো নিয়ম না মেনেই গভীর রাতে বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ফেলে যাচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন পোল্ট্রি ও গবাদিপশুর বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে তা মারাত্মক পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিয়ম অনুযায়ী এসব বর্জ্য কম্পোস্টিং বা বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করার কথা থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দা কৃষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে রাজশাহীর কৃষি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ভয়াবহ সংকটে পড়তে পারে।
