নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ বুধবার। ভোর ৫:৫২। ২০ মে, ২০২৬।

পাটখাতকে সাত বিলিয়ন ডলারের শিল্পে উন্নীত করার লক্ষ্য সরকারের : বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

মে ১৯, ২০২৬ ২:৪০
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, উন্নত বীজ উৎপাদন এবং বহুমুখী পাটপণ্যের প্রসারের মাধ্যমে দেশের পাট খাতকে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় থেকে পাঁচ থেকে সাত বিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী শিল্পে পরিণত করা সম্ভব।

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকার ফার্মগেটে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রোমোশন সেন্টারে আয়োজিত ‘বহুমুখী পাটপণ্য মেলা-২০২৬’–এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, এক সময় বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয় ৫০ থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হলেও পাট খাতের অবদান প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ বাস্তবতায় পাটখাতের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগাতে সরকার সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

আরও পড়ুনঃ  সাংবাদিক মমিনুল ইসলাম মুন-এর পিতার ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক

তিনি আরো বলেন, পাট খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে দেশে উন্নত মানের পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ছয় হাজার টন পাটবীজের চাহিদা পূরণে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয়ভাবে মানসম্মত পাটবীজ উৎপাদন নিশ্চিত করা হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কৃষককে ন্যায্যমূল্য দিতে হলে পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ, নতুন নকশা উদ্ভাবন এবং উচ্চমূল্যের বাজার সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। এজন্য গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।

আরও পড়ুনঃ  যশোরে শিল্পকলা একাডেমি ও পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী

তিনি জানান, পাট ও চামড়া খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উন্নত বীজ উদ্ভাবন, নতুন পণ্য উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার উপযোগী ডিজাইন তৈরিতে সহযোগিতা জোরদার করতে চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রোমোশন সেন্টার এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো দ্রুত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মুনাফাভিত্তিক পরিচালনা নিশ্চিত করা যায়।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাটখাতের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত আগ্রহী। তাঁর নেতৃত্বে সরকার সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনার আওতায় পাট খাতের প্রতিটি পর্যায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আরও পড়ুনঃ  নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সাংবাদিকসহ জনগণের সহযোগিতা কামনা আরএমপি কমিশনারের

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম বলেন, সকলে মিলে পাট শিল্পের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিপ্লবকে এগিয়ে নিতে হবে। তাহলেই পাট তার অতীত গৌরব ফিরে পাবে, বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাটচাষীসহ পাট শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। পাশাপাশি গ্রাম ও শহরে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বহুমুখী পাটপণ্য মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পাটপণ্যের সম্ভাবনা, বাজার সম্প্রসারণ ও বিদ্যমান সমস্যাবলি নিয়ে আলোচনা করেন।

পাঁচ দিন ব্যাপী এ মেলা ২৩ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
#

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।