অনলাইন ডেস্ক : কবে–কোথায় অবসর নেবেন সেই ঘোষণা এখনও দেননি আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। তবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে আগামী সপ্তাহে যে মাঠে নামছে, সেটি তার অজানা নয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নিজেদের মাঠে আর ম্যাচ নেই আলবিসেলেস্তেদের। তাই ধারণা করা হচ্ছে, ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে বাছাইয়ের লড়াইটা হতে পারে ঘরের মাঠে মেসির ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ!
বাছাইয়ের শেষ দুই রাউন্ডে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আগামী ৪ সেপ্টেম্বর নিজেদের মাঠে ভেনেজুয়েলার মুখোমুখি হবে। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের মাঠে খেলবে তারা। যার জন্য গতকাল (বৃহস্পতিবার) ২৯ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। আসন্ন ম্যাচ দিয়ে চোট কাটিয়ে ফের জাতীয় দলে ফিরছেন মেসি। এর মধ্যে প্রথম ম্যাচটি হতে পারে তার জন্য বিশেষ।
ইনজুরি থেকে ফিরে এক ম্যাচ খেলে আবারও অস্বস্তিতে পড়েছিলেন ইন্টার মায়ামির আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। যে কারণে মেসি মাঝে দুটি ম্যাচ মিস করেছিলেন। গতকাল লিগস কাপ সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে ফেরান কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানো। যেখানে জোড়া গোল করে মেসি মায়ামিকে ফাইনালে তুলেছেন। মায়ামির খেলা শেষে আর্জেন্টিনার হয়ে ভেনেজুয়েলা ম্যাচ নিয়ে কথা বলেছেন ৮ বারের এই ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা।
বিশেষ ম্যাচ, তাই স্ত্রী–সন্তান ও পরিবার নিয়ে সেদিন মাঠে হাজির হওয়ার কথা জানালেন মেসি, ‘এটি আমার জন্য খুব বিশেষ একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে, কারণ এটাই শেষ বাছাইপর্বের ম্যাচ। এরপর (আর্জেন্টিনায়) আর কোনো প্রীতি ম্যাচ বা অন্য কোনো খেলা থাকবে কি না জানি না। তাই সেদিন আমার স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা, ভাইবোনসহ পুরো পরিবার আমার সঙ্গে থাকবে। আমরা সেভাবে উপভোগ করব। এরপর কী হবে আমি জানি না।’
অবশ্য মেসির মন্তব্যে ঘরের মাঠে তিনি শেষবার নামবেন বলে সরাসরি কোনো ইঙ্গিত নেই। আবার এরপর যে খেলতে পারেন কি না সেই অনিশ্চয়তাও ফুটে উঠেছে। ইতোমধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ফেলেছে আর্জেন্টিনা। লাতিন আমেরিকা থেকে তারাই প্রথম দল হিসেবে সেই টিকিট পেয়েছে। আগামী শুক্রবার বুয়েন্স আয়ার্সের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ভেনেজুয়েলাকে আতিথ্য দেবে দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বের ম্যাচে।
অবসর নিয়ে মেসি সরাসরি মন্তব্য না করলেও, তার কথায় পরবর্তী বিশ্বকাপের পর তিনি জাতীয় দল থেকে বিদায়ের ইঙ্গিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ২০২২ আসরের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে নামবে আর্জেন্টিনা। এরপর ২০৩০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব শুরু হবে ২০২৭ সালে, তখন মেসির বয়স হবে ৪০। মায়ামির ম্যাচ শেষে মেসির বক্তব্যের পর দক্ষিণ আমেরিকা ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল সামাজিক মাধ্যমে লিখেছে, ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স ইজ কামিং।’ যার সঙ্গে মেসির আর্জেন্টাইন জার্সি পরিহিত একটি ছবি প্রকাশ করেছে।
এদিকে, সংবাদসংস্থা এপি’র তথ্যমতে– আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) ঘরের মাঠে মেসির শেষ ম্যাচকে ঘিরে টিকিটের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সবচেয়ে সাশ্রয়ী টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ১০০ ডলার, আর সবচেয়ে দামী টিকিট প্রায় ৫০০ ডলারে পাওয়া যাবে।