স্টাফ রিপোর্টার : রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন আগামীকাল বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে নিম্নোল্লিখিত বাণী প্রদান করেছেন:
“বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উপলক্ষ্যে আমি এই বাহিনীর সকল স্তরের সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আজকের এই ঐতিহাসিক শুভক্ষণে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ এ বাহিনীর ৬৭০ জন বীর সদস্যসহ বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে দেশমাতৃকার জন্য আত্মদানকারী সকল সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই ও তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুদূরপ্রসারী চিন্তা ও পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় আনসার বাহিনীর পুনর্গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে আনসার-ভিডিপি আইন, ১৯৯৫ প্রণয়নের মাধ্যমে ব্যাটালিয়ন আনসার গঠিত হয় এবং এতে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল আইনগত সাংগঠনিক ভিত্তি লাভ করে। সেই অগ্রদৃষ্টিসম্পন্ন উদ্যোগের ফলস্বরূপ আজ আনসার-ভিডিপি গ্রাম-বাংলার অতন্দ্র প্রহরীতে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন করেছে। এই নির্বাচনে অন্যান্য বাহিনী ও মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যগণ সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেজন্য বাহিনীর সদস্যদের আমি ধন্যবাদ জানাই। আমি আশা করি, একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার পথচলায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিশ্বস্ত সহযাত্রী হয়ে পাশে থাকবে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধান, বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলা এবং যানজট নিরসনে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এছাড়া, নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এ বাহিনী যুব ও নারীদেরকে বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে। যেকোনো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা প্রদানে নিয়োজিত সংস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করে এর পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলাবোধের ওপর। আমি আশা করি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবেন।
আমার বিশ্বাস, ‘শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন, নিরাপত্তায় সর্বত্র আমরা’-এ মূলমন্ত্রে দীক্ষিত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সকল সদস্য জননিরাপত্তার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন। আমি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।
আমি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করছি।”
