নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

এমবাপ্পের জোড়া গোলে সুইডেনকে বিধ্বস্ত করে শেষ ১৬’তে ফ্রান্স

জুলাই ১, ২০২৬ ১২:২৫ 👁️ ৯৩ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : কিলিয়ান এমবাপ্পের দুই গোলের সাথে ব্র্যাডলি বারকোলার এক গোলে মঙ্গলবার সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। এই জয়ে দুই এ্যাসিস্ট করেছেন মাইকেল ওলিসে। পরের রাউন্ডে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ উজ্জীবিত প্যারাগুয়ে।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে কাল উপস্থিত ছিলেন ৮০ হাজার ৬৬৩ জন সমর্থক। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্য ফরাশি সমর্থক ছিলেন। এমবাপ্পে তাদের হতাশ করেননি। বিরতির ঠিক আগে দারুন এক গোলে ডেডলক ভাঙ্গেন এমবাপ্পে। এর আগে দুইবার শট পোস্টে না লাগলে আরও আগেই এগিয়ে যেতে পারতো ফরাশিরা। এর মধ্যে একটি ছিল এমবাপ্পের, আরেকটি ওলিসের।

আরও পড়ুনঃ  অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

অনেকটা খোলসবন্দী সুইডিশ দলের বিপক্ষে পুরো ম্যাচেই আধিপত্য দেখিয়েছে ফ্রান্স। বলের পজিশন ও টার্গেটে শটের দিক থেকে ফ্রান্সই এগিয়ে ছিল।

৫৩ মিনিটে ওলিসের এ্যাসিস্টে পিএসজি উইঙ্গার ব্র্যাডলি বারকোলা ব্যবধান দ্বিগুন করেন। এরপর এমবাপ্পেকে দিয়ে তৃতীয় গোলটি করিয়েছেন ওলিসে।

এনিয়ে এবারের বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে লিওনেল মেসির সর্বোচ্চ ৬ গোলকে স্পর্শ করলেন এমবাপ্পে। ফরাশি অধিনায়ক সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে গোল করেছেন ১৮টি। মেসির সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৯ গোলের থেকে যা এক গোল কম। ২৭ বছর বয়সী মেসির সামনে এখন মেসিকে ছাড়িয়ে যাবার সুযোগ।

মায়ের শেষকৃত্য শেষে শনিবার দলের সাথে যোগ দিয়েছেন ফরাশি কোচ দিদিয়ের দেশ্যম। এ কারনে তিনি নরওয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডাগ আউটে ছিলেন না। বিশ্বকাপ শেষে ১৪ বছরের সফল মেয়াদ শেষে ফ্রান্স জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষনা আগেই দিয়েছেন দেশ্যম। ১৯৯৮ সলে বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স দলের অধিনায়ক ছিলেন দেশ্যম। এরপর তার কোচিংয়ে ফ্রান্স ২০১৮ বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে।

আরও পড়ুনঃ  গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই : এলজিআরডি মন্ত্রী

১৯৯৮ সালে ঘরের মাঠে শেষ ১৬’র লড়াইয়ে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল। অতিরিক্ত সময়ে লরেন্ট ব্ল্যাঙ্কের গোল্ডেন গোলে ফ্রান্সের জয় নিশ্চিত হয়। এবারও শেষ ষোলতে লেস ব্লুজদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আমেরিকান দলটি। আগামী শনিকার ফিলাডেলফিয়ায় দুই দল মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচে জয়ী হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার ব্যপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স।

আরও একবার ফ্রান্সের হয়ে এমবাপ্পে ও ওলিসে ছিলেন সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে। এ্যটাকিং কৌশলে খেলতে নামা ফ্রান্সের আক্রমনভাগে এমবাপ্পের নেতৃত্বে আরও ছিলেন ওসমানে ডেম্বেলে, বারকোলা ও ডিসায়ার ডুয়ে। সুইডেনও অবশ্য আগ্রাসী মনোভাবেই খেলা শুরু করে। প্রিমিয়ার লিগের তিন কান্ডারি ভিক্টর গায়োকেরেস, আলেক্সান্ডার ইসাক ও এন্থনি এলানগাকে নিয়ে তাদের আক্রমনভাগ সাজানো ছিল। কিন্তু তারা সুযোগ তৈরী করার জন্য তেমনভাবে বল পাননি। যার ফলে গ্র্যাহাম পটারের দলের বাড়ি ফেরা নিশ্চিত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  দেশে হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু

২০ মিনিটে ওলিসে এমবাপ্পের দিকে দারুন একটি বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু অল্পের জন্য অফসাইডের কারনে এমবাপ্পের সেই আক্রমন কাজে আসেনি। যদিও ফ্রান্সের প্রচন্ড চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত নতী স্বীকার করতে বাধ্য হয় সুইডিশ রক্ষণভাগ। জুলেস কুন্ডের পাস থেকে এমবাপ্পের শট পোস্টে লেগে ফেরত আসে। আদ্রিয়েন রাবোয়িতের শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়। দুর্দান্ত এক ওভারহেড বাইসাইকেল কিকে ওলিসের শটও পোস্টে লাগলে হতাশ হতে হয় ফ্রান্সকে। ফিরতি শটে ডেম্বেলেও জালের ঠিকানা খুঁজে পাননি।

৪৫ মিনিটে কর্ণার থেকে ডেম্বেলে ও ওলিসের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বল পেয়ে যান এমবাপ্পে। এবার আর কোন ভুল করেননি রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। সুইডিশ গোলরক্ষক জ্যাকব উইডেল জেটারস্ট্রমকে পরাস্ত করে তিনি বল জালে পাঠান।

বিরতির পর সুইডেন ম্যাচে ফিরে আসার প্রত্যয়ে আগ্রাসী হয়ে খেলতে থাকে। কিন্তু আট মিনিটের মধ্যে ওলিসের এ্যাসিস্টে বারকোলার ব্যবধান দ্বিগুণ করলে তাদের আশা শেষ হয়ে যায়। ওলিসে নিজে গোল পাননি ঠিকই, কিন্তু ৭৪ মিনিটে বিরল এক এ্যাসিস্টে এমবাপ্পেকে দিয়ে তৃতীয় গোলটি করিয়েছেন।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।