নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে ফুটপাত দখল মুক্ত করার ঘোষণা চসিক মেয়রের

জানুয়ারি ৩১, ২০২৪ ৬:৪৮ 👁️ ৭১ views
Link Copied!

এম মনির চৌধুরী রানা : অবৈধ দখলে থাকা ফুটপাত উদ্ধারে অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) নগরীর থিয়েটার ইন্সটিটিউটে চসিকের নির্বাচিত ষষ্ঠ পরিষদের ৩৬তম সাধারণ সভায় নগরীর ফুটপাথ দখল নিয়ে ক্ষোভ মিশ্রিত আলোচনা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র, প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলর, কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র বলেন, নগরীর ফুটপাত দখল জনগণের জন্য অসহনীয় হয়ে গেছে। মানুষ স্বস্তিতে হাটতে পারবেনা, মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নিতে পারবেনা তা হতে পারেনা। আমরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সাথে সভা করেছি। দখল হওয়া ফুটপাত উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি পে-পার্কিং চালুসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নেয়া হবে। চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের কারণে আমাদের অভিযান পরিচালনা কার্যক্রম কিছুটা কম ছিল। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে অভিযান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আরও পড়ুনঃ  আলীকদমে তামাক চাষ নিরুৎসাহিতকরণে উদ্বুদ্ধকরণ সভা

এ সময় অভিযান পরিচালনা সম্পর্কে মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাবাজারে অভিযান চালিয়ে ফুটপাত ও সড়ক উদ্ধার করেছিলাম। প্রায় দু’মাস উদ্ধার হওয়া স্থান উন্মুক্ত ছিল। তবে এরপর আবারো সে জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। এজন্য আমরা জায়গা উদ্ধার করলে সংশ্লিষ্ট থানা গুলো যদি নিয়মিত মনিটরিং করে তাহলে নগরীর ফুটপাত ও সড়ক উন্মুক্ত রাখা সম্ভব। মেয়র মহোদয়ের নির্দেশ বাস্তবায়নে আগামী সপ্তাহে স্টেশন থেকে ফলমন্ডির রাস্তাটা আমরা উচ্ছেদ করব। প্রয়োজনে পুলিশ-আনসারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নিয়ে যে কোন মূল্যে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করব। সিডিএ’র জলাবদ্ধতা প্রকল্প প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, সিডিএ’র জলাবদ্ধতা নিরসণ প্রকল্পের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে হচ্ছে। আমি প্রকল্পের এলাকার গুলোতে পরিদর্শন করে দেখেছি চাক্তাই খাল, বিরজা খালসহ বিভিন্ন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাটি জমে আছে।

আরও পড়ুনঃ  গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে

এ মাটি উত্তোলন করা না হলে এ বছরও নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এজন্য বর্ষাকাল আসার আগেই নালা-খালের মাটি উত্তোলন করতে হবে। সভায় ট্রাফিক বিভাগের এডিসি মো. কাজী হুমায়ুন রশীদ বলেন, হকার উচ্ছেদে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমানে কিছু এলাকায় ফুটপাত পুরোপরি দখল হয়ে গেছে। এ কারণে অনেক মানুষকে ফুটপাতে জায়গা না পাওয়ায় রাস্তাায় হাটতে হচ্ছে যা দুর্ঘটনা ও জ্যাম বাড়াচ্ছে। পর্যাপ্ত জ্যাব্রাক্রসিং না থাকার কারণে পথচারীরা সমস্যায় ভুগছেন। পর্যাপ্ত জ্যাব্রাক্রসিং নির্মিত হলে যানজট ও দুর্ঘটনা কমবে। নগরীতে দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে মোড়গুলোতে।

আমরা যদি পরিকল্পনামাফিক মোড়গুলোকে গড়তে পারি তবে দীর্ঘমেয়াদে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে। বর্তমানে যে সমস্ত গাড়িকে আইনভঙ্গের জন্য আটক করা হয় সেগুলোকে রাখার জন্য পুলিশের ডাম্পিং স্টেশন প্রয়োজন। চসিক এধরনের গাড়ির জন্য ডাম্পিং স্টেশন করলে নগরীতে যানজট হ্রাস পাবে এবং আটককৃত গাড়ির ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে। সভায় একাধিক কাউন্সিলর চসিকের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে কাউন্সিলরদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার দাবি জানালে চসিকের প্রকৌশল বিভাগের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, বর্ষা মৌসুমে ২ মাস কাজ করা যায়না।

আরও পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

এজন্য শুষ্ক মৌসুমেই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজে অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। কাজ নিম্নমানের হলে, কাজ শেষ না করে ফেলে রাখলে ঠিকাদারকে বাদ করে দিব। পিসি রোডের ঠিকাদার কাজ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার পর যেভাবে কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শেষ করেছি সেভাবে সময়মতো প্রকল্প শেষ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করব বলে মেয়র জানান। সভায় ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতায় বিমানবন্দর সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ১৭ শতাংশ বলে জানান উপ-প্রকল্প পরিচালক জসিম উদ্দিন।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।