নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ শুক্রবার। সকাল ৭:১৬। ৩ এপ্রিল, ২০২৬।

জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতায় এগিয়ে আসতে হবে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

মার্চ ৩১, ২০২৬ ৫:০১
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের প্রায় ১৮০ মিলিয়ন মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনগণের প্রতি সেই দায়বদ্ধতা থেকেই চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র‍্যান্ড বল রুমে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ট ফেইলিউর বিভাগ এবং বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত ‌‘ব্রিজ দ্য গ্যাপ বিটুইন ড্রাগস, ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্জারি ইন হার্ট ফেইলিউর’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক হার্ট ফেইলিউর কনফারেন্স ২৬-এর সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. শফিউদ্দিন।

মঙ্গলবার( ৩১ মার্চ) মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদশে সর্বপ্রথম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য এনআইসিভিডি (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজেস) প্রতিষ্ঠিত হয় যা পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হয় এবং বর্তমানে এটি হৃদরোগ চিকিৎসায় অন্যতম প্রধান বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, হার্টের রোগের বিভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে যা পুষ্টিগত গুণাগুণ কিংবা নারী-পুরুষ-ধনী-দরিদ্র কোনো শ্রেণিভেদে নির্ধারিত হয় না; এই রোগ সবার হয়।

আরও পড়ুনঃ  ইরানে কি পারমাণবিক হামলা করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

তিনি স্বাস্থ্যসেবায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। হৃদরোগসহ বিভিন্ন নন- কমিউনিকেবল ডিজিজ এবং কমিউনিকেবল ডিজিজের প্রতিকার বা প্রতিরোধের জন্য সরকারের যে প্রতিষ্ঠিত কাঠামো রয়েছে সেই কাঠামোকে আরো কার্যকর, সমন্বিত এবং জনমুখী করতে হবে যাতে করে চিকিৎসাসেবা দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌছে যায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে হৃদরোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা হৃদরোগীর সংখ্যার তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম। তিনি উপস্থিত চিকিৎসকদের কার্ডিওলজির টেকনিক্যাল এক্সপার্ট উল্লেখ করে বলেন, আপনারাই নির্ধারণ করবেন কীভাবে আপনারা হৃদরোগীদের সেবা দিবেন। দেশের নীতি-নির্ধারকদের আপনারাই রাস্তা দেখাবেন কীভাবে এই সেক্টরে উন্নয়ন হবে।

তিনি বলেন, আপনাদের মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে। আপনারা যারা কার্ডিওলজির ট্রেইনার রয়েছেন তাদের দায়িত্ব নিতে হবে জুনিয়রদের এক্সপার্ট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দক্ষ কার্ডিওলজিস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি, চিকিৎসা অবকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে হৃদরোগীদের জন্য বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আপনাদেরকেই দায়িত্বশীল এবং অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রখ্যাত কয়েকজন কার্ডিওলজিস্টের অবদান স্মরণ করেন এবং প্রথমবারের মতন এ ধরণের কনফারেন্স আয়োজনের জন্য আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

আরও পড়ুনঃ  গোদাগাড়ীতে পাম্পে তেল নিতে এসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানায় ৭ মোটরসাইকেল আরোহী

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ ধরনের কনফারেন্স আয়োজনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি কার্ডিওলজিস্টদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, কার্ডিওলজিতে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা সাধনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সর্বোপরি হৃদরোগীদের সেবার মানোন্নয়নের জন্য এটি একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে আমি মনে করি।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এবং সরকারকে সমন্বিতভাবে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ডাক্তারি পেশাকে মহান পেশা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ পেশার মহত্ত্বই সমাজে তাদের অন্যদের থেকে আলাদা মর্যাদা দেয়। তিনি চিকিৎসকদের মানবিকতার ব্রত নিয়ে রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা প্রদানের আহ্বান জানান। দেশের চিকিৎসাখাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য তিনি চিকিৎসকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

কনফারেন্সের সমাপনী পর্বের বিভিন্ন ইভেন্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো বাংলাদেশ হার্ট ফেইলিউর অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি ঘোষণা করা; যে কমিটিতে সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক ডাঃ আতাহার আলী, সাধারণ সম্পাদক ডাঃ ডিএমএম ফারুক ওসমানী খোকন এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ডাঃ এস এম ই বাকের এর নাম ঘোষনা করা হয়। দুইজন প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডাঃ কে এম এইচ এস সিরাজুল হক এবং অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলামকে কার্ডিওলজিতে বিশেষ অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং ডাঃ শহিদুল হক কর্তৃক হার্ট ফেইলিউর এর ওপর লিখিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র-খারগ দ্বীপ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের

দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ। সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল জুরিখ থেকে আগত প্রফেসর ড. রবার্ট মানকা, যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ হাসপাতালের হার্ট ফেইলিউর বিশেষজ্ঞ প্রফেসর থেরেসা এ. ম্যাকডোনাঘ, রয়্যাল প্যাপওর্থ হাসপাতালের অ্যাডভান্সড হার্ট ফেইলিউর বিশেষজ্ঞ প্রফেসর স্টিফেন পেটিট, এবং প্রফেসর ফ্র্যাঙ্ক রুশিৎসকাসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বৈজ্ঞানিক সেশনে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

সম্মেলনের প্রাক-আয়োজনে মেডিক্যাল এআই এবং কার্ডিয়াক এমআরআই বিষয়ক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। মালয়েশিয়া থেকে আগত ডিজিটাল হেলথ বিশেষজ্ঞ ড. সুতান কাভেরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেশন পরিচালনা করেন, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। দেশি-বিদেশি ৮০০ জন কার্ডিওলজিস্ট এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।