অনলাইন ডেস্ক : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ দেশে যাতে ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে। সেজন্য বিশেষ করে নারী সমাজকে ভূমিকা রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর শহীদ আবু সাইদ মিলনায়তনে জুলাই শহীদদের স্মরণে মহিলা দলের আয়োজনে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী নারীদের অবদান শীর্ষক আলোচনা’ সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, যারা বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নারী-পুরুষ দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের কাছে বাংলাদেশ ঋণী। এবার তাদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের পালা। ৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কিংবা ফ্যাসিবাদ বিরোধী দেড় দশকের আন্দোলন প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও লড়াই করেছেন। জীবন দিয়েছেন। শুধুমাত্র জুলাইয়ের গণ অভ্যুত্থানেই কমপক্ষে ১০ জন নারী শহীদ হয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন ,আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি একজন নারীর সংগ্রামী অবদানকে শুধুমাত্র হতাহতের সংখ্যা দিয়ে বিবেচনা করলে সেটি নারীর আত্মত্যাগের প্রতি সুবিচার করা হবেনা। কারণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কিংবা স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনে কোনো সংসারের একমাত্র কর্মক্ষম পুরুষ সদস্য হতাহত হওয়ার পর একটি সংসারকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একজন নারীর যে নিরন্তর সংগ্রাম এটিও নারীর জন্য আরেকটি কঠিন লড়াই।
তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নারী উন্নয়নে পৃথক একটি ‘নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন করেছিলেন। মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত নারীদের বিনাবেতনে শিক্ষার সুযোগ চালু করেছিলেন। বিএনপি বিশ্বাস করে দেশের অর্ধেক সংখ্যক নারীকে রাষ্ট্র এবং রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়।
তারেক রহমান বলেন, নারী শক্তিকে কর্মপরিকল্পনার বাইরে রেখে কখনোই রাষ্ট্র এগিয়ে যেতে পারেনা। তাই নারী শক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে দেশের অর্ধেক সংখ্যক নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাদের আশা-আকাঙ্খাকে ধারণ করে বিএনপি আগামী দিনের সকল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।গ্লোবালাইজেশনের এই সময়ে শুধু বাংলাদেশের ভূখণ্ডই নয় বিশ্বের সব দেশেই নারীদের জন্যও শিক্ষা চাকুরী ব্যবসা সহ সকল সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। শুধু নারী পুরুষ ভেদাভেদ না করে সবাইকে শিক্ষা দীক্ষায় কর্মদক্ষকরে গড়ে তুলতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, আমি মনে করি, বিশেষ করে নারীদেরকে শিক্ষা দীক্ষা এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা গেলে নারীর প্রতি বৈষম্যলোপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে পারিবারিক সহিংসতা রোধেও ভূমিকা রাখবে। সেই লক্ষেই আমাদের স্লোগান ক্ষমতায়িত নারী শক্তি -পরিবারের মুক্তি। এ কারণেই বিএনপির নীতি মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত দক্ষ জনশক্তি তৈরির রাজনীতি। নিরাপদ কর্মপরিবেশ আর নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির রাজনীতি।যদিও তুলনামূলক বিচারে দেশে নারী প্রধান পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে তবে দেশের অর্ধেক নারীর মধ্যে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার বিচারে নারীরা অনেক পিছিয়ে। নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের জন্য বিএনপি ইতোমধ্যেই সুনির্দিষ্ট বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তারেক রহমান বলেন ,বাংলাদেশে পরিবারের সংখ্যা প্রায় চার কোটি। এরমধ্যে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোর মধ্য থেকে প্রথম পর্যায়ে কমবেশি ৫০ লক্ষপ্রান্তিক পর্যায়ের পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি জনগণের রায়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, প্রান্তিক পরিবারগুলোকে প্রতিমাসে রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক অথবা প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে। বিএনপি আশা করে এ ধরণের উদ্যোগে পরিবার ও সমাজে একদিকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ঘটবে অপরদিকে পরিবারগুলোর সামনে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরী হবে।বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় অনেক মা তার প্রিয় সন্তান হারিয়েছেন। স্ত্রী তার প্রিয়তম স্বামী হারিয়েছেন। বোন তার ভাই হারিয়েছেন। অনেক মা বোন নির্যাতিত নিপীড়িত হয়েছেন। অনেক পরিবারের পারিবারিক বন্ধন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।
তারেক রহমান বলেন ,হাজারো শহীদ আর সন্তান স্বজন হারানো অসংখ্য মা বোনের আর্তনাদে শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের অবসানের পর আপনাদের আমাদের সবার সামনে শিশু নারী পুরুষ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ সামনে এসেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শহীদদের কাঙ্খিত বাংলাদেশ গঠনের জন্য নারীদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।
তারেক রহমান বলেন, একজন মায়ের চোখে যেমন বাংলাদেশ’হওয়া দরকার তেমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে আগামী জাতীয় নির্বাচন দেশের প্রতিটি নাগরিকে জন্য গুরুত্ত্বপূর্ণ। দেশে যাতে আর কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ, চরমপন্থা মাথাছাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এ ব্যাপারে বিশেষ করে নারীদেরকে সতর্ক এবং সজাগ থাকার আহবান জানাই।
তারেক রহমান বলেন, আমি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের আহবান জানিয়ে বলতে চাই নারী পুরুষ শিশু ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য শহীদদের কাঙ্খিত একটি ইনসাফভিত্তিক গণতান্ত্রিক নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকি। সবার জন্য নিরাপদ একটি গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চলমান অভিযাত্রায় অতীতের মতো আগামী দিনেও আমরা আমাদের মা বোনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সমর্থন আশা করি।-ইত্তেফাক