নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

মার্চ ২২, ২০২৬ ৫:৩১ 👁️ ১৮ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যথায় দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দেন তিনি। একই সময় ইসরাইলের ওপর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

আরও পড়ুনঃ  অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

তিন সপ্তাহের যুদ্ধের পর সামরিক অভিযান ‘ধীরে ধীরে কমিয়ে’ বা ‘গুটিয়ে আনার’ কথা ভাবছেন- এমন ঘোষণা দেওয়ার মাত্র একদিন পরই ট্রাম্প এই আলটিমেটাম দেন। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি আরও হাজার হাজার মার্কিন মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে। সেগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হবে এবং সবচেয়ে বড় কেন্দ্রটি দিয়ে এই হামলা শুরু হবে। তার পোস্ট অনুযায়ী, এই সময়সীমা শেষ হবে সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, তেহরান কেবল সেই দেশগুলোর জাহাজের ওপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত। সংঘাতে জড়িত নয়- এমন দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না।

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের সেনাবাহিনীর বরাতে ফার্স সংবাদ সংস্থা জানায়, ইরানের ওপর হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের জ্বালানি স্থাপনা এবং পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে।

আরও পড়ুনঃ  আমিই বিশ্বের সেরা ফুটবলার, এটা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন নেই : এমবাপে

শনিবার ট্রাম্পের আলটিমেটামের কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানে। এতে ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ঘটনার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সব দিক থেকে পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে আসা হামলায় আবাসিক ভবনগুলোর সামনের অংশ ভেঙে যায়। মাটিতে গভীর গর্ত তৈরি হয়।

উদ্ধারকর্মীরা জানান, আরাদ শহরে ৮৪ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। এর কয়েক ঘণ্টা আগে নিকটবর্তী দিমোনায় ৩৩ জন আহত হয়। এএফপিটিভির ফুটেজে সেখানে ধ্বংসস্তূপ ও মাটিতে বড় গর্ত দেখা গেছে।

দিমোনায় একটি স্থাপনা রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বলে ধারণা করা হয়। তবে ইসরাইল নিজেদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার বিষয়টি সবসময় অস্বীকার করেছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী এএফপিকে জানায়, দিমোনার একটি ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। একাধিক স্থানে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে শার্পনেলের আঘাতে গুরুতর আহত ১০ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  অরেঞ্জ গাউনে মুগ্ধ করলেন সাফা কবির

আরাদে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছে।

নেতানিয়াহু এ পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত কঠিন’ উল্লেখ করে বলেন, ইরানের ওপর হামলা চলতে থাকবে। এর কয়েক ঘণ্টা পর ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা তেহরানে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরাইলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে দিমোনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তাদের বাহিনী দক্ষিণ ইসরাইলের অন্যান্য শহর এবং কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়েছে।

নাতাঞ্জে হামলার পর জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি ‘পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সামরিক সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

নাতাঞ্জ স্থাপনাটি ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ। সেখানে ভূগর্ভস্থ সেন্ট্রিফিউজের মাধ্যমে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হয়। ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত যুদ্ধে এই স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী নাতাঞ্জ হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। তবে তারা জানিয়েছে, তেহরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

তাদের দাবি, সেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের উপাদান তৈরি করা হচ্ছিল।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।