নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

২ বছর পর রাফাহ ক্রসিং খুলছে ইসরায়েল

ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ ৭:১৭ 👁️ ৩৩ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বসবাসকারীদের ‘লাইফ লাইন’ নামে পরিচিত রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। আপাতত সীমিত বা পাইলট আকারে এই সীমান্ত পথ দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারবে, তবে ত্রাণের প্রবেশে বাধা দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুনঃ  উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর অঙ্গসংস্থা এবং গাজা উপত্যকার ত্রাণ সরবরাহ সমন্বয়কারী কো-অর্ডিনেশন অব গভর্নমেন্ট অ্যাক্টিভিটিজ অ্যান্ড টেরিটোরিজ (কোগাট) রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, “আগামী কাল(সোমবার) থেকে রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়া হচ্ছে। আপাতত পাইলট আকারে এই ক্রসিংয়ে লোক চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন এই ক্রসিং দিয়ে গাজা ত্যাগ করতে পারবে সর্বোচ্চ ১৫০ জন এবং প্রবেশ করতে পারবে সর্বোচ্চ ৫০ জন।”

সোমবার থেকে এই ক্রসিং দিয়ে যারা যাওয়া-আসা করবেন, তাদের কঠোর নিরাপত্তা চেকিংয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে কোগাটের বিবৃতিতে।

প্রসঙ্গত রাফাহ হলো গাজার একমাত্র সীমান্ত ক্রসিং, যা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এই ক্রসিংয়ের একপাশে গাজা, অপর পাশে মিসরের সিনাই উপত্যকা। ২০২৩ সালে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের আগ পর্যন্ত ফিলিস্তিন, মিসর ও ইসরায়েলের সরকার সমন্বিতভাবে এই ক্রসিংয়ের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলো।

আরও পড়ুনঃ  হরমুজে সম্পৃক্ত না হতে দ. কোরিয়াকে ইরানের সতর্কতা

যুদ্ধের আগ পর্যন্ত গাজায় ত্রাণের সরবরাহের অধিকাংশই আসত রাফাহ ক্রসিং দিয়ে। দারিদ্র্যপীড়িত এ উপত্যাকার বাসিন্দারের এক তৃতীয়াংশ সরাসরি সেসব ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল ছিল; কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাসের হামলা এবং সেই হামলার জবাবে ৮ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের কয়েক দিন পর থেকে রাফাহ ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা কঠোর করে ইসরায়েলি বাহিনী। পরে ২০২৪ সালের মে মাসে রাফাহ ক্রসিং পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

গাজায় হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের অবসানে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ২০টি পয়েন্ট সম্বলিত তিন পর্বের যে শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প— সেখানে রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ ছিল।

আরও পড়ুনঃ  নিয়ামতপুরে কাব ক্যাম্পুরীতে স্কাউটদেের দক্ষ, সুনাগরিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার প্রত্যয়

ইসরায়েলের সরকার এবং গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় সায় জানানোর পর ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয় গাজায়। বর্তমানে সেই পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায় চলছে।

গাজার সরকারি মিডিয়া দপ্তরের পরিচালক ইসমাইল আল দাওয়াব্দা জানিয়েছেন, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি রাফাহ ক্রসিং পেরিয়ে মিসরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তারা ফিরে আসতে চাইছেন।

এছাড়া গাজায় বর্তমানে ২২ হাজারেরও বেশি আহত এবং অসুস্থ ফিলিস্তিনি আছেন, যাদের জরুরিভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়া প্রয়োজন। এই রোগীদের একমাত্র ভরসা এই রাফাহ ক্রসিং।

রোববার আলজাজিরাকে ইসমাইল আল দাওয়াব্দা জানিয়েছেন, ক্রসিং খোলার প্রথম দিন ৫০ জন আহত ও অসুস্থ ফিলিস্তিনিকে চিকিৎসার জন্য রাফাহ ক্রসিং দিয়ে মিসরে পাঠানো হবে। তাদের নাম নাম নথিবদ্ধ করা হয়েছে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি, আলজাজিরা

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।