নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ বুধবার। ভোর ৫:৩১। ২৭ মে, ২০২৬।

গরুকে কেন ‘জাতীয় পশু’ ঘোষণার দাবি ভারতের মুসলিম সংগঠনগুলোর

মে ২৭, ২০২৬ ১:৪২ 👁️ ৫২ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : ভারতে গরুকে ‘জাতীয় পশু’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে কয়েকটি প্রভাবশালী মুসলিম সংগঠন। দেশটিতে বর্তমানে বাঘ জাতীয় পশুর মর্যাদা পেলেও, হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে গরুর ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় এনে নতুন এই দাবি সামনে আনা হয়েছে।

এতদিন মূলত হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার পক্ষে কথা বললেও, এবার মুসলিম সংগঠনগুলোর সমর্থন বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ঈদুল আজহার আগে এমন দাবি ওঠায় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও আলোচনা তীব্র হয়েছে।

মুসলিম নেতাদের বক্তব্য, গরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দিলে গো-হত্যা সংক্রান্ত আইন সারা দেশে একভাবে কার্যকর করা সম্ভব হবে। এতে ‘গো-রক্ষা’র নামে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনাও কমে আসতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

আরও পড়ুনঃ  রামিসা হত্যা মামলায় আসামি পক্ষে লড়বেন না ঢাকা বারের কোনো আইনজীবী

অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামায়াতের সভাপতি মাওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে যৌথ স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এজন্য দিল্লিতে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন অল ইন্ডিয়া শিয়া পার্সোনাল ল বোর্ডের মাওলানা ইয়াসুব আব্বাস। তার মতে, গো-রক্ষার প্রশ্নে দেশের সব রাজ্যে সরকারের অবস্থান এক হওয়া উচিত এবং কোনো ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়।

এদিকে জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের একাংশের প্রধান মাওলানা আরশাদ মাদানি বলেন, তিনি বহু আগেই গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি তুলেছিলেন। একই সঙ্গে গরু জবাই ও এর বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের পক্ষেও মত দেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাসিক প্রশাসকের বাণী

অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের মাওলানা খালিদ রশিদ ফারাঙ্গি মাহালি বলেন, হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে গরুকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া যেতে পারে।

ভারতে গো-রক্ষার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু। ২০১৪ সালের নির্বাচনি অঙ্গীকারেও বিজেপি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার অংশ হিসেবে গো-রক্ষার কথা উল্লেখ করেছিল। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গেও পুরোনো গরু জবাই সংক্রান্ত আইন কার্যকরের দাবি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  গরমে পথচারীদের মাঝে ‘শুভেচ্ছা রিয়েল এস্টেট’র শরবত ও বিস্কুট বিতরণ

তবে বিরোধী দল ও মুসলিম নেতাদের অভিযোগ, গরুর মাংসের বিষয়ে বিজেপির নীতিতে দ্বৈত অবস্থান রয়েছে। উত্তর ও মধ্য ভারতের অনেক রাজ্যে কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গোয়া ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্যে নিয়ম তুলনামূলক শিথিল।

সমালোচকদের মতে, দেশে গো-হত্যা নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হলেও ভারত এখনো বিশ্বের অন্যতম বড় গরুর মাংস রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে।

ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের নেতা কাউসার হায়াত খান বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরুর মাংস নিয়ে ভিন্ন নীতি থাকার কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তার দাবি, একটি অভিন্ন জাতীয় আইন কার্যকর হলে এই দ্বিমুখী অবস্থানের অবসান ঘটতে পারে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।