নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

দুই দিনে দ্বিতীয়বারের মতো আন্দোলনে নামার হুমকি ককরোচ পার্টির

জুলাই ২৮, ২০২৬ ১১:০৪ 👁️ ১৩ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় পরপর দুই দিনে দ্বিতীয়বারের মতো আন্দোলন শুরু করার হুমকি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মঙ্গলবার সিজেপির নেতারা বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট পুলিশকে দায়ের করা সব এফআইআরের তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এতে সরকার এটিকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে হেনস্তা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরসহ অন্যান্য স্থানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ এনে দায়ের করা একাধিক আবেদনের শুনানি গ্রহণ করেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।

শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কঠোর বা বলপ্রয়োগমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই এমন আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

তবে রায়ে একটি বিশেষ শর্ত বা আইনি ফাঁকও রাখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক বেঞ্চ আদেশে বলেছেন, ‌‌‌‌দিল্লি এনসিটি এবং অন্যান্য রাজ্য দায়ের করা এফআইআরগুলোর তদন্ত চালিয়ে যেতে পারে। প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তবে এই আইনি সুরক্ষা যাদের বিরুদ্ধে পূর্বের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

আরও পড়ুনঃ  অপহরণ মামলার কিশোরী ভিকটিম তাসনিমকে লক্ষীপুর এলাকা থেকে উদ্ধার

মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, এই আদেশটি পুরো দেশের জন্য সতর্কঘণ্টা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

দাস লেখেন, আদালতের এই আদেশ ২০২৬ সালের ২৫ জুলাই ভারত সরকার দেশের যুবসমাজকে যে প্রতিশ্রুতি ও নিশ্চয়তা দিয়েছিল, তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এফআইআরগুলো প্রত্যাহার এবং কোনো আন্দোলনকারীকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। সেই সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ভিত্তিতে এবং সম্পূর্ণ বিশ্বাসের জায়গা থেকেই ককরোচ জনতা পার্টি দেশব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের এখন জোরালো আশঙ্কা হচ্ছে, ভারত সরকার এবং বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলো প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের এই আদেশকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পৃথক আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর সচল এবং তাদের চরম হেনস্তার মুখোমুখি করতে পারে। প্রথম দিন থেকেই আমাদের প্রধান উদ্বেগ ছিল এটিই, যে শান্তিপূর্ণ ভিন্নমতকে দমন করতে আদালতকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

সৌরভ দাস বলেন, সরকারের আইনজীবীরা সিজেপি এবং আন্দোলনকারীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিষয়ে অবগত থাকা সত্ত্বেও এই আদেশের কোনো বিরোধিতা করেননি। এই বিষয়টি উদ্বেগজনক।

জনসমক্ষে দেওয়া আশ্বাসকে এভাবে চতুরতার সাথে হালকা বা ক্ষুণ্ন করা যায় না উল্লেখ করে সিজেপির এই মুখপাত্র বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি-এনডিএ শাসিত রাজ্য সরকারগুলো চাইলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এরপর সোমবারের দেওয়া হুমকির পুনরাবৃত্তি করেন সৌরভ দাস।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ভারত সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের সময়সীমা আজই শেষ হচ্ছে। আমরা আবারও বলছি তারা যেন প্রতিটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে: এফআইআরগুলো প্রত্যাহার, কোনো আন্দোলনকারী যেন ভবিষ্যতে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মুখোমুখি না হয় তা নিশ্চিত এবং যে আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আন্দোলন শেষ হয়েছিল, তার প্রতিটি শর্ত ও চেতনাকে সম্মান জানাতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  রুয়েটে যোগদান করলেন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন

সিজেপি মুখপাত্র বলেন, অন্যথায় এবং পূর্বে ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিজেদের ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য রাজপথে নামা শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনকারীদের রক্ষায় ককরোচ জনতা পার্টির সামনে আবারও দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। কোনো সরকার তার প্রতিশ্রুতি ভাঙলে দেশের তরুণসমাজ চুপ করে থাকবে বলে আশা করতে পারে না। যদি নিশ্চয়তা উপেক্ষা করা হয়, তাহলে ভারতের রাজপথ আবারও দেশের তরুণদের কণ্ঠে সোচ্চার হয়ে উঠবে।

এর আগে সোমবার সিজেপির আরেক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেছিলেন, চুক্তির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং শত শত আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেছিলেন, আমরা দাবি জানাচ্ছি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেওয়া সব এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হোক। দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা বিজেপির মিত্র রাজ্যগুলোর পুলিশ যেন নতুন করে কোনো এফআইআর দায়ের না করে। তা না হলে আমরা আবারও আন্দোলনে বসতে বাধ্য হব।

সূত্র: এনডিটিভি।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।