নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার। বিকাল ৪:০১। ১১ জুন, ২০২৬।

নিয়ামতপুরে ধান কাটতে ভরসা শিবগঞ্জের ‘জিনাপাটি’

মে ১৭, ২০২৬ ১০:৩৮ 👁️ ২২ views
Link Copied!

সবুজ সরকার, নিয়ামতপুর : ‘ধান কাটা হয়ে গেছে…’ খেতের কাটা ধান উঠানে (খৈলান) নিয়ে যেতে কৃষক-শ্রমিকদের হাঁকডাকে মুখর সারা মাঠ। এরই মাঝে গোধূলি বেলায় রক্তিম আভা ছড়িয়ে সূর্য বিদায় নিয়েছে। ফিকে হয়ে এসেছে আলো। ‘সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে’ প্রতিটি মাঠের বুকে। মানুষের মত পাখিরাও ফিরছে ঘরে।

অন্যদিকে সন্ধ্যার আয়োজন শুরু হয়ে গেছে লোকালয়ে। বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলে উঠেছে বাজারের দোকানে দোকানে। তারই একপাশে দাঁড়িয়ে পান মুখে পান গুঁজে দিলেন মো. ভগু(৬৩)। চোখে চোখ পড়তেই মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, সাঁঝ বেলাতে একটা পান মুখে দিছি জি।

তিনি নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা গ্রামে বোরো ধান কাটতে এসেছেন। বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। তাঁর মতো আরও শ্রমিক এসেছেন নিয়ামতপুর উপজেলায়।

আরও পড়ুনঃ  সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমান চোরাচালানী মালামাল জব্দ

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেল, প্রতিবছর আমন ও বোরো মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে লোকজন ধান কাটার জন্য ‘দলভাবে’ নওগাঁর নিয়ামতপুরে আসেন। স্থানীয়ভাবে এই ধান কাটার দলকে ‘জিনাপাটি’ বলা হয়। ধান কাটার একেকটি দলে গড়ে ১৫-২০ জন সদস্য থাকে। প্রতিদলে একজন দলপ্রধান থাকে। তাঁকে ‘দফাদার’ বলা হয়। ভাবিচা গ্রামে এবার ১৭টি দল এসেছে।

গ্রামের নিমতলা বাজারে এক সন্ধ্যায় কথা হয় মো. ভগুর সঙ্গে। কথায় কথায় জানালেন, প্রায় ৩০ বছর আগে থেকে ধান কাটার কাজ করেন তিনি। আগে বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটলেও ভাবিচা গ্রামে গত ৬ বছর ধরে আসছেন। বাজারের পাশেই একটা উঠানে ধান তুলেছেন। মাড়াইয়ের মেশিন আসতে দেরি হচ্ছে। তাই একটা পান খাচ্ছেন।

কথা বলা শেষ করতেই অদূরে একটা হট্টগোল শুনতে পাওয়া গেল। কাছে গিয়ে বোঝা গেল একটি ধান কাটা দলের সদস্য স্থানীয় ধান মাড়াই মেশিনের মালিকের সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেই দলের প্রধান মো. ইব্রাহীম জানালেন, তাঁরা তিন বিঘার ধান উঠানে তুলে রেখেছেন কিন্তু মাড়াই করা জন্য মেশিন পাচ্ছেন না। তাই মেশিন কখন পাওয়া যাবে সেটার ‘সিডিউল’ করে নিচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  গুজব ও ভুয়া কনটেন্ট ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি জানালেন, এবারে বৃষ্টির জন্য ধান কাটা-মাড়াইয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আবার ঠিকমতো মাড়াই করার মেশিনও পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় মুদি দোকানি আবু বক্কর সিদ্দিক জানালেন, ধান কাটা শ্রমিকেরা নিজেরাই রান্না করে খায়। এজন্য তাঁরা দোকান থেকে চাল, ডাল, মসলাসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী কেনেন। এসময়ে বিক্রি ভালো হয়।

চা দোকানি নির্মল প্রামানিক বলেন, সাধারণত সন্ধ্যার সময় ধান কাটা লোকজন দোকানে চা এর পাশাপাশি অনেক কিছু খায়। এসময় বেচাবিক্রি একটু বেশি হয়। ভাবিচা গ্রামের কৃষক উজ্জ্বল সরকার বলেন, ‘আমাদের এলাকায় ধান কাটা শ্রমিক কম। শিবগঞ্জ থেকে ধান কাটার লোকজন আসায় আমরা সময়মতো ধান গোলায় তুলতে পারি।’

আরও পড়ুনঃ  কাল সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানালেন, ধানের জেলা হিসেবে নওগাঁর খ্যাতি সারাদেশে। নিয়ামতপুর একটি কৃষি প্রধান এলাকা হওয়ায় এখানে প্রচুর ধান উৎপাদন হয়। এই ধান কাটার জন্য প্রতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ধান কাটা শ্রমিক নিয়ামতপুরে আসে। এতে করে এই উপজেলার কৃষকদের অনেক সুবিধা হয়। তাঁরা যথা সময়ে ধান কাটা-মাড়াই করতে পারেন। শ্রমিকেরা ধান কাটতে আসায় শ্রমিক সংকটও থাকে না। ধান কাটা শ্রমিকেরাও আর্থিকভাবে লাভবান হন।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।