নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ সোমবার। রাত ১:৫০। ১৫ জুন, ২০২৬।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জলবায়ু-সহনশীল নগর গঠনের দাবি

জুন ১৪, ২০২৬ ৮:৫৭ 👁️ ৩৩ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরের প্রান্তিক ও বস্তিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় “প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জলবায়ু-সহনশীল নগর: সবুজায়ন, নগর কৃষি ও ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গঠনে একটি নীতিপত্র” শীর্ষক একটি নীতিপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) এর উদ্যেগে আজ ১৪ জুন, রবিবার নগরের রানীবাজারে অবস্থিত এসকে সেমিনার হলে একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয় এবং একটি নীতিপত্র প্রকাশ করা হয়। বারসিকের “পোভার্টি রিডাকশন অ্যান্ড আরবান রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম”-এর আওতায় রাজশাহী নগরের ১৪টি বস্তিতে পরিচালিত মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান, কেস স্টাডি ও পরিবারভিত্তিক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ নীতিপত্র প্রণয়ন করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নগর কৃষি, সবুজায়ন এবং মৌলিক নাগরিক সেবার প্রাপ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, আয় বৃদ্ধি, নারী ক্ষমতায়ন, সামাজিক সংহতি এবং জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব।

নীতিপত্রে নগর কৃষিকে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা, বস্তিতে কমিউনিটি পুষ্টি বাগান স্থাপন, নিরাপদ পানি-বিদ্যুৎ-স্যানিটেশন নিশ্চিত করা, নারী নেতৃত্বভিত্তিক সবুজায়ন কর্মসূচি চালু করা, জলবায়ু অভিযোজন তহবিল গঠন এবং অংশগ্রহণমূলক নগর পরিকল্পনা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মার্কিন সংস্থা থেকে রামেক হাসপাতাল পেল ২৮ কোটি টাকার ওষুধ

নীতিপত্রে উল্লেখ করা হয়, রাজশাহীসহ বাংলাদেশের নগরগুলোকে আরও সবুজ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল নগরে রূপান্তর করতে হলে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্থান দিতে হবে এবং তাদের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

বারসিক, রাজশাহীর সহযোগী কর্মসূচী কর্মকর্তা তহুরা খাতুন লিলির সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন, বারসিক রাজশাহীর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম। নীতিপত্রটি পাঠ করেন, বারসিক, রাজশাহীর সহযোগী কর্মসূচী কর্মকর্তা অমিত সরকার।

বস্তিবাসী ও নগর প্রান্তিক মানুষের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন, নগর দরিদ্র অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও জামালপুর বস্তির বাসিন্দা নিলুফা ইসমত আরা, বুধপাড়া বস্তির বাসিন্দা লতিফা বেগম ও ওমর আলী, চৌদ্দপাই বস্তির বাসিন্দা পাপিয়া বেগম, নামোভদ্রা বস্তির বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া, বহরমপুর বস্তির বাসিন্দা মতি মিয়া, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্কুল পরিচালনাকারী যুব মো. রকি আলী, ফাতেমাতুজ জোহরাসহ প্রমূখ।

সংলাপে আলোচনায় অংশ নেন মেট্রেপলিটন কৃষি অফিসার রোয়ালিয়া রাজশাহী ফারজানা হক; রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কমিউনিটি উন্নয়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান; রাজশাহী ওয়াসার সহকারী প্রকৌশী ফারুক আহম্মেদ; গ্রীণ কোয়ালিশন রাজশাহীর সভাপতি, নদী ও পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, বারসিকের প্রকল্প সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম; বাসস রাজশাহীর বিশেষ সংবাদদাতা ড. আইনাল হক; বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমানসহ প্রমূখ।

আরও পড়ুনঃ  আর্জেন্টিনার ৯ ফুটবলার পাচ্ছেন ফিফার বিশেষ উপহার

নীতিপত্রের নীতিগত সুপারিশসমূহ হলো:
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নগর কৃষিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নগর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে; প্রতিটি বস্তিতে কমিউনিটি পুষ্টি বাগান ও জলবায়ু-সহনশীল নগর কৃষি কর্মসূচি চালু করতে হবে, যাতে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো পুষ্টিকর খাদ্যের সহজ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে পারে; বস্তিবাসীদের জন্য নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে এবং ওয়াসা, নেসকো ও সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়ে সহজলভ্য সেবা প্রদান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে; নগর দরিদ্র, বিশেষ করে নারীদের জন্য বীজ, চারা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে হবে এবং নারী নেতৃত্বভিত্তিক নগর কৃষি ও সবুজায়ন তহবিল গঠন করতে হবে; প্রতিটি ওয়ার্ডে সবুজ করিডর, উন্মুক্ত সবুজ স্থান ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে, যাতে নগর তাপদ্বীপ প্রভাব কমানো এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা যায়; নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ জলবায়ু অভিযোজন তহবিল গঠন করতে হবে এবং জলবায়ু বাজেটে তাদের জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে; বস্তিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে অংশগ্রহণমূলক নগর পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে, যাতে উন্নয়ন কার্যক্রমে তাদের মতামত ও প্রয়োজন প্রতিফলিত হয়; নগর কৃষির জন্য বীজ ব্যাংক, কম্পোস্ট উৎপাদন, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রণোদনা তহবিল গঠন করতে হবে, যাতে এই খাতের টেকসই সম্প্রসারণ সম্ভব হয়; বস্তিবাসীদের জন্য নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে এবং তাদের ভূমি ও আবাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; নগর দরিদ্রদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করতে হবে এবং এসডিজি-১১ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে “Right to City Right to Basic Services ” নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে; কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু সচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, যাতে নাগরিকরা জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও প্রস্তুত হতে পারে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।