স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আট দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনারের কাছে জমা দিয়েছে রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আরএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, ঐতিহ্যগতভাবে শান্ত ও নিরাপদ নগরী হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। আরএমপির প্রশংসনীয় কিছু তৎপরতা ও নিয়মিত গ্রেপ্তার অভিযান চললেও অপরাধের পুনরাবৃত্তি এবং নতুন অপরাধচক্রের বিস্তারে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর সিএনবি মোড়, শিরইল, নওদাপাড়া, রেলস্টেশন ও বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীদের উৎপাত উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এসব ঘটনায় নারী ও শিক্ষার্থীরা বেশি শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের অস্ত্র প্রদর্শন, মারামারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা এবং চাঁদাবাজির ঘটনাও বেড়েছে। পুলিশের ডাটাবেজে পাঁচ শতাধিক কিশোর অপরাধীর তালিকা থাকলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কথিত ‘বড় ভাইদের’ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, নগরীতে মাদক বিক্রি ও সেবন আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে। মাদক চুরি, ডাকাতি ও রাহাজানির অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে সাইবার স্পেসে আর্থিক প্রতারণা, ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তথ্য চুরি এবং অনলাইন জালিয়াতির মতো ডিজিটাল অপরাধও বাড়ছে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে চুরি এবং চুরির চেষ্টার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে দিন-রাত, বিশেষ করে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ মোবাইল টহল জোরদার করা; পুলিশের তালিকাভুক্ত ৫০০-এর বেশি কিশোর গ্যাং সদস্য এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা; ৯৯৯-এর পাশাপাশি আরএমপির তত্ত্বাবধানে গোপনীয় বিশেষ নিরাপত্তা হটলাইন চালু; গুরুত্বপূর্ণ ও জনমানবহীন এলাকার অকেজো সিসিটিভি ক্যামেরা মেরামত করে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের আওতায় আনা; নারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বিশেষ টহল দল মোতায়েন; সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধি; চিহ্নিত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম পুনরায় চালু করা।
স্মারকলিপিতে নগরবাসীর নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বসবাসের স্বার্থে এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর, কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, পুলিশ নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। প্রতিদিন মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি মহানগরীতে সংঘটিত খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আসামিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক, বেলাল আহমেদ, শফিকুর রহমান ও জালাল উদ্দিন, যুগ্ম সদস্য সচিব সাদেকুল ইসলাম, শাহ মখদুম থানা শাখার আহ্বায়ক আতাউর রহমান, বোয়ালিয়া থানা শাখার সদস্য সচিব তৌহিদুল হক তোতা, মহানগর শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম ও লিয়াকত খান এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী হায়দারসহ অন্যান্য সদস্যরা।
