নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ শুক্রবার। বিকাল ৪:৪৪। ১ মে, ২০২৬।

শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ

মে ১, ২০২৬ ১২:০৪
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ (শুক্রবার)। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই পুণ্য তিথিতে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তার শুভজন্ম, বোধিজ্ঞান ও মহাপরিনির্বাণ লাভ– এই তিন স্মৃতিবিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমাই বিশ্বের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে বুদ্ধপূর্ণিমা হিসেবে পরিচিত।

অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী ও প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সহাবস্থান করাই বুদ্ধের মূল জীবনদর্শন। অহিংসবাদের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের বাণী– বৈরিতা দিয়ে বৈরিতা কিংবা হিংসা দিয়ে হিংসা কখনো প্রশমিত হয় না; বরং অহিংসা দিয়ে হিংসাকে এবং অবৈরিতা দিয়ে বৈরিতাকে প্রশমিত করতে হয়। তার এই শাশ্বত বাণীকে ধারণ করে আজ বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ, পিণ্ডদান ও ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশসহ নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সারা দেশে দিনটি উদ্‌যাপন করবেন বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা।

শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষ্যে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেন,‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না।’

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় অবৈধভাবে তেল মজুত রাখায় ব্যবসায়ীসহ গ্রেপ্তার ২

তিনি বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও তা করিনি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি সবাই সব ক্ষেত্রে সমান অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।

তারেক রহমান বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতিটি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এ দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার, আমার ও আমাদের সকলের।’

বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সকল বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  মহান মে দিবস আজ

তিনি আরও বলেন, আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না।

শুরুতেই সারা বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তাঁর অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি না করা, ব্যভিচার না করা, মিথ্যা না বলা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যার যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে, আমরা সকলে মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণ করতে পারবো।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়–য়া উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  বাঘায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

এ সময় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট ও বুদ্ধমূর্তির প্রতিরূপ তুলে দেওয়া হয়।

এদিকে, দিনটি উপলক্ষ্যে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানিয়েছে, আজ সকাল ১০টায় বিহারে বুদ্ধপূজা ও শীল গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সন্ধ্যা ছয়টায় বুদ্ধপূর্ণিমার তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।