স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী এডভোকেট বার এসোসিয়েশন নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল মনোনীত আবুল কাসেম-পারভেজ জাহেদী প্যানেলের পরিচিতি সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে কাদিরগঞ্জ গেটার রোডে শাহ ডাইন কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত প্যানেল পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মিলন বলেন, নির্বাচিত হলে বহুতল বার ভবন নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবীরা যখনই দায়িত্বে থাকেন তখনই বারের উন্নয়ন হয় এবং আইনজীবীরা ন্যায্য হিস্যা পান। বর্তমানে মরণোত্তর অনুদানের অর্থ দ্বিগুণ করা হয়েছে। এছাড়াও জুনিয়র আইনজীবীদের যথাযথভাবে কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় রাজশাহী বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক জমসেদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বার সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জজ কোর্টের জিপি মাইনুল আহসান পান্না, পিপি রাইমুল ইসলাম, জামায়াতের নায়েবে আমির আবু মোহাম্মদ সেলিম, মহানগরের পিপি অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ মাসুম, অ্যাডভোকেট পারভেজ তৌফিক জাহেদী, অ্যাডভোকেট মজিজুল হক, অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলামসহ রাজশাহী জজ কোর্টের বিভিন্ন আইনজীবী। সভায় আবুল কাসেম–পারভেজ জাহেদী প্যানেলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
ইশতেহারে বলা হয়, বার এসোসিয়েশনে প্রতি বছর নতুন সদস্যভুক্তির পরও উৎসব ভাতা হিসেবে বাৎসরিক ৪০ হাজার টাকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। মৃত্যুকালীন দাবির অর্থ তাৎক্ষণিক পরিশোধের পাশাপাশি আগামী বছর কল্যাণ তহবিলের সর্বোচ্চ স্ল্যাব ২০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা করা হবে এবং ২০৩২ সালের মধ্যে তা ৫০ লাখ টাকায় উন্নীত করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়াও আইনজীবীদের বসার স্থানের স্থায়ী সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ১ নম্বর পুরাতন বার ভবনের স্থলে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নিয়মিত আইনজীবীদের বার কাউন্সিলে প্রদত্ত চাঁদার সম্পূর্ণ অংশ বার তহবিল থেকে প্রদান, দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অব্যাহত রাখা, সার্বক্ষণিক বিশুদ্ধ মিনারেল ওয়াটার সরবরাহ এবং নতুন টেলিফোন নির্দেশিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আইনজীবীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম গড়ে তোলা হবে। আদালত চত্বরে টাউট ও দালাল উচ্ছেদ এবং ক্লার্কসহ সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।পাশাপাশি বার-বেঞ্চের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে মাসিক ভিত্তিতে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে।
আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সেমিনার ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। আইনজীবী নেতৃত্ব বিকাশে পূর্বের ন্যায় নির্বাহী কমিটিতে পরপর দুইবারের বেশি নির্বাচিত না হওয়ার বিধান পুনঃস্থাপন করা হবে। এছাড়া আইনজীবীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগে প্লট বা ফ্ল্যাট, গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স ও বাৎসরিক বনভোজনের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। ইশতেহারে আরও বলা হয়, আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে।
পরিচিতি সভা শেষে ইফতারের আগে দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
