নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

ট্রাম্পকে কেন ইরান যুদ্ধ থেকে পিছু হটার আহ্বান জানাচ্ছে সৌদি?

আগস্ট ৩, ২০২৬ ১০:১৮ 👁️ ৪ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের ওপর আর নতুন করে হামলা না চালাতে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) অনুরোধ জানিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। তেহরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বৃহৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’-এর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

শনিবার এক ফোনালাপের সময় ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৌদি যুবরাজ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস বলেছে, জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধার পর ইরানের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন সাময়িকী নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ বিন ফারাহ আল-শায়া বলেন, সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কেবল একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, বরং এটি একটি বৈচিত্র্যময় ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বিনিয়োগ, জ্বালানি, পর্যটন ও উদ্ভাবনের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে দেশটির অবস্থানকে শক্তিশালী করার সর্বাত্মক জাতীয় প্রকল্প।

আরও পড়ুনঃ  রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী

সৌদি আরব এই কারণে উদ্বিগ্ন যে, ইরানের ওপর যেকোনো বড় ধরনের হামলার পরিণতি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য গুরুতর হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো হামলা চালালে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও অবকাঠামোগত স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়ে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইতোমধ্যে দিয়ে রেখেছে তেহরান।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতবিরোধ সত্ত্বেও তেহরানের সঙ্গে তৈরি হওয়া উত্তেজনা কীভাবে সামাল দেওয়া হবে; সেই আলোচনায় নিজেদের প্রভাব বজায় রেখে চলেছে রিয়াদ।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৪

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডানা স্ট্রোল বলেছেন, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হুমকি নস্যাৎ করার জন্য কেবল সামরিক শক্তি প্রয়োগই যে যথেষ্ট নয়; সৌদি আরব তা অনুধাবন করতে পেরেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বারবার চালানো সামরিক অভিযানও হুথিদের হুমকি সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তার মতে, সৌদি আরব যদি হুথিদের সঙ্গে পুনরায় কোনো বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা তাদের ভিশন ২০৩০ এর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

নিউজউইককে স্ট্রোল বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে সৌদি আরব শিখেছে, ইয়েমেন থেকে আসা হুথিদের হুমকি মোকাবিলার জন্য কেবল সামরিক শক্তিই যথেষ্ট নয়। এটি কেবল সৌদির সামরিক সক্ষমতার প্রশ্ন নয়; বরং হুথি হুমকির ধরন, ইরানের কাছ থেকে তাদের প্রাপ্ত সহায়তা এবং ইয়েমেনে তাদের শক্ত অবস্থানের বিষয়টির সঙ্গেও এটি জড়িত।

আরও পড়ুনঃ  মানবিক আচরণে রোগীর হৃদয়ে স্থান করে নিতে হবে : ভূমিমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এসব আলোচনায় তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের যেকোনো হামলা অথবা এসব হামলায় অন্য কোনো দেশের সমর্থন পেলে ইরান তার কঠোর জবাব দেবে।

এদিকে, দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে কাতার। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার উপায় খুঁজতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি এবং ওমানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন কাতারের কর্মকর্তারা।

সূত্র: নিউজউইক।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।