নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ বুধবার। রাত ৯:০৬। ১৩ মে, ২০২৬।

তানোরে তেরো বছরেও পাকা হয়নি শিবনদী সেতুর সংযোগ সড়ক

মে ১৩, ২০২৬ ৩:৫৭
Link Copied!

মমিনুল ইসলাম মুন, স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোরে বিল কুমারী (শিবনদী) বিলের ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের ১৩ বছর পার হলেও এখনো পাকা করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ইট সলিং ও হেয়ারিং বন্ডের ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, অটোরিকশা চালক, মোটরসাইকেল আরোহী ও ব্যবসায়ীরা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। ভারী যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক পাকা না হওয়ায় জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তানোর গোল্লাপাড়া বাজার থেকে সেতু পর্যন্ত এবং সেতু থেকে মোহনপুর সীমান্তের বাঁধ পর্যন্ত রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অপরদিকে মোহনপুর অংশের সড়ক পাকা হলেও তানোর অংশ এখনো ইট সলিং অবস্থায় পড়ে আছে।

আরও পড়ুনঃ  শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী উদযাপন

স্থানীয় ভ্যানচালক আব্দুল জলিল বলেন, “রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে প্রতিদিন গাড়ি মেরামত করতে হয়। যাত্রীও কমে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই চলাচল করা যায় না।”

অটোরিকশা চালক সোহেল রানা বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে চলতে গেলে মনে হয় গাড়ি এখনই উল্টে যাবে। অনেক সময় যাত্রীরা মাঝপথেই নেমে যায়। আমরা খুব কষ্টে আছি।”

ব্যবসায়ী শাহীন আলী বলেন, “সেতু হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে। কিন্তু রাস্তার কারণে এখন মানুষ আসতেই চায় না। দ্রুত রাস্তা পাকা না করলে এলাকার উন্নয়ন থেমে যাবে।”

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে রিপ্রেজেনন্টেটিভ প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

স্থানীয় বাসিন্দা রোজিনা খাতুন বলেন, “স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। গর্তের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশ্বাস দেন, কাজের কাজ কিছুই হয় না।”

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তানোর ও মোহনপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৩ সালে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১০ মিটার দীর্ঘ শিবনদী সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০১৩ সালে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলেও তা পাকা করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সিডিউল অনুযায়ী বাইরে থেকে মাটি এনে রাস্তা নির্মাণ করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। ফলে বর্ষা এলেই রাস্তা ভেঙে যায়।

আরও পড়ুনঃ  চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের পথে রাষ্ট্রপতি

স্থানীয়দের দাবি, গত প্রায় এক দশকে বারবার সংস্কারের নামে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রতি বছর বন্যায় রাস্তা ভেঙে গিয়ে নতুন করে সংস্কার করা হয়। তবে গত দুই বছর রাস্তা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় এখন দ্রুত পাকা করার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

তানোর উপজেলা প্রকৌশলী নুরুন্নাহার এই প্রতিবেদককে বলেন, সড়কটি পাকা করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রতি বছর রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় সংস্কার করতে হয়েছে। তবে গত দুই বছর ধরে রাস্তা আর ভাঙেনি। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।