স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর দামকুড়া থানা এলাকায় সংঘটিত অটোরিকশাচালক হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা, চারটি ব্যাটারি ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, নিহত মামুনুর রশিদ গত ২ মে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রতিদিনের মতো ভাড়ায় চালানোর উদ্দেশ্যে অটোরিকশা নিয়ে গ্যারেজ থেকে বের হন। রাতে তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে দামকুড়া থানা পুলিশ জোতরাবোন উত্তরপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাবুল বাদী হয়ে দামকুড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, দুর্বৃত্তরা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে কোর্ট স্টেশন এলাকা থেকে কাশিয়াডাঙ্গা বাজারে যাওয়ার কথা বলে মামুনুর রশিদের অটোরিকশা ভাড়া নেয়। পথিমধ্যে কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে একটি চায়ের দোকানে চায়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাকে খাওয়ানো হয়। পরে দামকুড়া থানার জোতরাবোন এলাকায় পৌঁছালে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
ঘটনার পর থেকেই আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় ডিবির একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) শাহ্ আলী মিয়া ও তার দল গত ১৫ মে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধার করেন।
একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় হড়গ্রাম পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মাসুদ রানার ছেলে তানভীর রানা প্রান্ত, লক্ষীপুর ভাটাপাড়ার বাসিন্দা ইনসানের ছেলে শামীম, আলীগঞ্জ পূর্ব মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা জামালের ছেলে রাব্বি এবং ভাটাপাড়ার বাসিন্দা মোকলেসের ছেলে নূর আলমকে।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯ ও ২০ মে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা মৃত আব্দুল রশিদের ছেলে ওমর ফারুক বাবুসহ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যরা হলেন- সুতাহাটি এলাকার বাসিন্দা রাজ্জাকের ছেলে সেলিম, মাসকাটাদিঘি এলাকার বাসিন্দা মৃত কালামের ছেলে সুজন এবং খরিবোনা এলাকার বাসিন্দা মৃত আইনুদ্দিনের ছেলে রাহেনুল হক।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা, অটোরিকশার চারটি ব্যাটারি এবং ব্যাটারি খোলার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন আরএমপির মুখপাত্র।
