স্টাফ রিপোর্টার : উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরেই জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটে ভুগছে। একসময় ৫০০ শয্যার হাসপাতালটি ২০১১ সালে এক হাজার ২০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেই অনুযায়ী জনবল বাড়েনি। এখনো পুরোনো কাঠামোর জনবল দিয়েই হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ধারণক্ষমতার তিনগুণেরও বেশি রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চরম চাপের মুখে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ওয়ার্ডগুলোতে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। অথচ শয্যা রয়েছে মাত্র ১২০০টি। এতে অধিকাংশ রোগীকেই বেড না পেয়ে মেঝে ও বারান্দায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডগুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। একটি বেডে তিন থেকে চারজন শিশুকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। বহির্বিভাগেও রয়েছে রোগীর উপচে পড়া ভিড়।
প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আট হাজার রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হলেও দীর্ঘ লাইনের কারণে অনেক রোগী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। একজন চিকিৎসককে প্রতিদিন দেড় থেকে দুইশ রোগী পর্যন্ত দেখতে হচ্ছে।
রাজশাহীর মোল্লাপাড়া থেকে আসা এক রোগীর স্বজন জানান, সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সময়মতো টিকিট পাওয়া যায়নি। একই অভিযোগ করেন কুষ্টিয়া ও বরিশাল থেকে আসা রোগীর স্বজনরাও। ওয়ার্ডের অবস্থাও সমানভাবে উদ্বেগজনক। শিশু ওয়ার্ডের এক রোগীর মা জানান, চার দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও এখনো বেড পাননি। বারান্দায় থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। একই অবস্থা হৃদরোগ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের ওয়ার্ডগুলোতেও।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে ১৭৫ জন মিড-লেভেলের চিকিৎসক ও ২৭২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছেন। নার্স রয়েছেন প্রায় ১২০০ জন, তবে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছুটি বা প্রশিক্ষণে থাকায় কার্যত সংকট আরও প্রকট। জনবল সংকটের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিরও অভাব রয়েছে। একটি মাত্র রেডিওথেরাপি মেশিন দিয়ে বিপুল সংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। এমআরআই ও সিটিস্ক্যান মেশিনের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
