স্টাফ রিপোর্টার : মাত্র ১২৫ টাকা খরচ করে কোনো প্রকার উৎকোচ বা তদবির ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সরকারি চাকরিতে যোগদানকারী নতুন পেশকারদের মনোভাবের প্রশংসা করে ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, সমাজে শ্রেণি বৈষম্য দূর করতেই এ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দুঃখী মানুষের কল্যাণ এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বাবা-মা ও শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সততার সাথে দেশের ও জনগণের জন্য কাজ করতে নবযোগদানকৃতদের প্রতি আহ্বান জানান।
আজ ঢাকার তেজগাঁও ভূমি ভবনের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় সেমিনার হল রুমে নবযোগদানকৃত কর্মচারীগণের (পেশকার) ওরিয়েন্টেশন শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের বিগত ২০ বছরের মধ্যে এত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার কোনো রেকর্ড নেই। কোনো ধরনের তদবির ছাড়াই মাত্র ১২৫ টাকা খরচ করে আপনারা যারা চাকরি পেয়েছেন এবং আপনাদের অভিজ্ঞতার যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করেছে। বিগত ২০ বছর ধরে এ দেশ দুর্নীতি ও অনিয়মে জর্জরিত ছিল।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা অনুসরণ করেই সরকার দেশে সর্বপ্রথম ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে আত্মনিয়োগ করেছে। ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত গুটিকয়েক দুষ্টু লোকের দুর্নীতির বোঝা পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে টানতে হয়। তাই সকলকে দুর্নীতিমুক্ত থেকে সততার সাথে কাজ করতে হবে।
জনগণের অধিকারের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা সরকারি সেবা নিতে অফিসে আসেন, সেই জনগণই হলো এদেশের প্রকৃত মালিক। কাজেই আপনাদের অনুভব করতে হবে এই জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক এবং তাদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করতে হবে। বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ অন্তরে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মো. আবদুল্লাহ আল বাকী, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী। এছাড়া অনুষ্ঠানে নবযোগদানকৃত পেশকারসহ ভূমি রেকর্ড জরিপ অধিদপ্তর ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
