মমিনুল ইসলাম মুন, স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোর পৌর সদরের ঐতিহ্যবাহী তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজে গভর্নিং কমিটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, গ্রুপিং ও সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় আবারও নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নিয়োগ পরীক্ষার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরীক্ষায় অংশ নিতে আগত প্রার্থীরা কলেজে উপস্থিত হয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও পরীক্ষা শুরু না হওয়ায় তারা বিক্ষোভ ও হট্টগোল শুরু করেন। পরবর্তীতে নিয়োগ কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতির কারণে পরীক্ষা স্থগিতের নোটিশ সাঁটানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর আগেই বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক আব্দুস সালাম ডিসি ও ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিকবার তদন্তও পরিচালিত হয়। তবে তদন্তকে প্রভাবিত করতে বিভিন্ন সময় মব সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কলেজের পাঁচটি শূন্য পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সদস্যদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। একাধিক পক্ষ নিজেদের প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে তৎপর হয়ে ওঠে। এতে করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কয়েকবার নিয়োগ বোর্ডের তারিখ নির্ধারণ করেও তা স্থগিত করা হয়।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, অধ্যক্ষ পদে নির্দিষ্ট একজনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেন করা হয়েছে। নিয়োগের আগেই প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গভর্নিং বডির সভাপতি ও সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, কলেজের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ও জমির খাজনার অজুহাতে প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। নিয়োগ চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দাবি, যাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে তাদের চাকরি নিশ্চিত করতে চাপ রয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পূর্বের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাবিহা সুলতানাকে সরিয়ে দিয়ে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা বাড়তে থাকে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
