নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ রবিবার। রাত ৮:২৮। ৩১ মে, ২০২৬।

জঙ্গল সলিমপুরে কোনো সন্ত্রাসীর অভয়ারণ্য থাকবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মে ৩১, ২০২৬ ৬:০৭ 👁️ ৬০ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী বা অপরাধী চক্রের অভয়ারণ্য থাকবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী রোববার(৩১মে) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ হুঁশিয়ারি জানান।

পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম-সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

আরও পড়ুনঃ  মহাস্থানগড় জাদুঘরে সংরক্ষিত ৪৭টি মূর্তি আসল নাকি রেপ্লিকা, যাচাইয়ে হবে পরীক্ষা

মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি বা রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ভেতরে এক ধরনের ‘দুর্বৃত্তের রাষ্ট্র’ গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছিল, যার একটি প্রত্যক্ষ নমুনা হচ্ছে এই জঙ্গল সলিমপুর। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চট্টগ্রামে কিছু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যায়। কিছু ব্যবসায়ীর বাসভবনে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গুলি বর্ষণ এবং চাঁদা আদায়ের মতো ঘটনা ঘটার পর সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেয়। অপরাধীদের অবদমন করতে গত ৯ মার্চ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, জঙ্গল সলিমপুরে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বিভিন্ন পাহারা বসিয়ে সন্ত্রাসীরা যে সমান্তরাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, তা যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তথ্য ফাঁসের কারণে অভিযানের মূল লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করা সম্ভব হয়নি। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে র‍্যাবের নির্মাণাধীন ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার মতো দুঃসাহস সন্ত্রাসীরা কীভাবে পেল—তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এর পেছনে থাকা ভূমিদস্যু ও মূল ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

জঙ্গল সলিমপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের সরকার। জনগণকে স্বস্তি ও নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে যারা এখানে এসে বসতি স্থাপন করতে বাধ্য হয়েছেন বা স্থানান্তরিত হয়েছেন, তাঁদের কাউকেই আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না। প্রকৃত বাসিন্দাদের টেকসই পুনর্বাসনের জন্য সরকার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।’ তিনি উচ্ছেদ সংক্রান্ত যে কোনো অপপ্রচারে কান না দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশাসনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুনঃ  গরুকে কেন ‘জাতীয় পশু’ ঘোষণার দাবি ভারতের মুসলিম সংগঠনগুলোর

জঙ্গল সলিমপুরে রোড নেটওয়ার্ক তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, সলিমপুর ইউনিয়নের সাথে সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সংযোগ ঘটিয়ে একটি আধুনিক রোড নেটওয়ার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ড্রোন চিত্র ও সড়ক মানচিত্র পর্যালোচনা করে এই অঞ্চলে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সেনানিবাসের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির কাজ চলছে। এছাড়া, বায়েজিদ লিংকের আশেপাশে খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের ঝুলে থাকা প্রকল্পটি প্রশাসনিক অনুমোদনের আলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ বেতুয়া ও চা বাগান এলাকা থেকেও সন্ত্রাসীদের চিরতরে নির্মূল করা হবে।

জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী জনগণকে সাথে নিয়ে দেশে ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা করতে মন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
#

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।